সিলেটের কানাইঘাটে কিশোর উসমান গণি হত্যায় পাঁচ আসামির দুই জনের আমৃত্যু কারাদন্ড, দুই জনের যাবজ্জীবন এবং একজনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১০ আগস্ট) সিলেট জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে দুই আসামি রেজওয়ান আহমদ ও দুলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৩০২ তৎসহ ৩৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ের আরো ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
পলাতক ফখরুল ইসলাম ওরফে বকুল এবং নামিজুর রহমান ওরফে নাজিমকে একই ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। দন্ডপ্রাপ্তরা আত্মসমর্পন কিংবা গ্রেফতারের তারিখ থেকে সাজা কার্যকর হবে, এমনটি রায়ে উল্লেখ করেছেন বিচারক।
এছাড়া আসামি হোসেন আহমদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায়ি তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারি মোহাম্মদ সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০১৫ সালের ৩০ জুন রাতে সিলেটের কানাইঘাট বাজারে গিয়ে নিখোঁজ হন জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের লক্ষ্মীপ্রসাদ কান্দিগাঁও গ্রামের মন্তাজ আলী ময়নার ছেলে উসমান গণি মুসার(১৭)। দুই দিন পর ২ জুলাই উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সুতারখাল খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মন্তাজ আলী বাদি হয়ে কানাইঘাট থানায় ৪ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর সন্দেহভাজন চার যুবককে আটক করে পুলিশ। আটক চারজন হলেন- উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের চাক্তা গ্রামের সোলেমান আহমদের ছেলে রেজওয়ান আহমদ(১৯), লক্ষ্মীপ্রসাদ কান্দিগাঁওয়ের মৃত মন্তাজ উদ্দিনের ছেলে ফখরুজ্জামান (২৯), একই গ্রামের মৃত বকুল মালাকারের ছেলে মকুল মালাকার (২৬) ও হারাতৈল গ্রামের রকিবুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলাম ফয়সল (২১)। ঘটনার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
মামলায় সাক্ষিদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অত্র আদালতে দায়রা ১০৬৪/’১৬ মূলে রেকর্ড করা হয়। ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি ৫ আসামির বিরুদ্ধে ৩০২/২০১ তৎসহ পেনাল কোডের ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগ গঠন করে বিচারকার্য সম্পন্নের পর এ রায় ঘোষণা করেন।