মূল রিপোর্ট: দৈনিক শ্যামল সিলেট: সিলেট নগরীর ৩৭ নং ওয়ার্ডে আখালিয়া যুগীপাড়ায় টিলা কেটে নির্মিত হচ্ছে আবাসন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে টিলাকেটে প্লট বিক্রি করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর টিলা কাটার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দায়সারা। এ অবস্থায় বিক্রিত প্লট কেটে বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে।
জানা গেছে, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ সভাপতি আব্দুস শহীদ, আব্দুর রহিম ও হুমায়ন টিলার মালিক। তারা তাদের তত্বাবধায়ক দ্বারা টিলার ভূমি প্লট আকারে বিক্রি করেছেন। ওই টিলা কাটিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করেছেন। ইতিমধ্যে টিলার বেশিরভাগ অংশ কেটে প্লটের উপযোগী করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, টিলাটির মালিক আব্দুস শহীদ ও আব্দুর রহিম গংরা। টিলাতে জায়গার পরিমাণ ৫ একর ২৮ শতক। ৫ বছর আগে থেকে প্রতি শতক সাড়ে ৩ লাখ করে বিক্রি করা হয়। ইতিমধ্যে ২০টি প্লট বিক্রি হয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, যুগীরপাড়া এলাকায় আনুমানিক ১৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য, ৭৫ ফুট প্রস্থ, গড় উচ্চতা ১৩ ফুট এবং ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২৫ ঘনফুট দৃশ্যমান টিলারূপ ভূমি কেটে মাটি অপসারণ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর আখালিয়া যুগীরপাড়া ৩৭ ওয়ার্ডে কুমারগাও মৌজার ২৪৫৩ এসএ দাগের ১২০৩ এসএ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৫ একর ৪৮ শতক টিলা শ্রেনীর ভূমি কেটে সাবাড় করা হয়েছে।
এরআগে আখালিয়া কুমারগাঁও মৌজার ৭০ নং জে.এলভুক্ত ১১৯২ নং খতিয়ানের ২১০৮ নং দাগের অন্তর্গত দৃশ্যমান ও কেন্দ্রীয় টিলারূপ ভূমি কর্তনের দায়ে মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।
ওই টিলার মালিক প্রবাসী আব্দুল হকের নির্দেশনায় কেয়ারটেকার আশফাক আহমেদ, কবীর, শহীদ চৌধুরীর কেয়াটেকার নিজাম ও অন্যান্য বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে উক্ত টিলার মাটি কর্তনপূর্বক অপসারণ করেছেন। তারা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই আনুমানিক ১৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য, ৭৫ ফুট প্রস্থ, গড় উচ্চতা ১৩ ফুট এবং ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২৫ ঘনফুট দৃশ্যমান টিলারূপ ভূমি কেটে মাটি অপসারণ করেছেন। টিলাটির মালিক যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও পোর্টসমাউথ সিটি বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল হক (শাহ এম এ হক) বলে জানা গেছে।
সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা জানান, কেয়ারটেকার কবীর ও নিজাম উদ্দিনের মাধ্যমে জায়গা বিক্রি করে প্লট তৈরী করা হয়। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এমন পরিবেশ বিধ্বং-সী কাজ চালানো হয়েছে। ওই স্থানে আপাতত গরুর ফার্ম দেওয়া হয়েছে এবং সবজি ফলানো হয়। বর্তমানে এলাকাটি যুগীপাড়া ফার্মের টিলা নামে পরিচিত।
ফার্মের মালিক ও ভূমির কেয়ারটেকার কবির মিয়া বলেন, আমি ফার্ম দিয়েছি। তবে জায়গা কেনা বেচায় জড়িত নই।
২/৩ বছর ধরে ওখানে ফার্ম দেই। তবে টিলার জায়গাটি শহীদ লন্ডনীর স্বীকার করেন তিনি। টিলায় শহীদ লন্ডনীর জায়গার পরিমাণ প্রায় ৭ একর হবে, জানান তিনি এবং ২০টি প্লট বিক্রি করা হয়েছে।
প্লট ক্রয়কারী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্ড সফিক মিয়া বলেন, আমরা ৩ জনে মিলে ১৪ শতক জায়গা কিনেছি সেখানে। তার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মোতালেব ও অফিস সহকারি খালেদ রয়েছেন। তবে তাদের জায়গা এখনো টিলায় রয়েছে। জায়গার মূল মালিক আব্দুস শহীদ লন্ডনীর কাছ থেকে খরিদ করা। শতক সাড়ে ৩ লাখ করে কিনেন তারা। এছাড়া আরও অনেকে কিনে মাটি কাটিয়েছেন। কেবল আমরা কাটতে পারিনি।
এছাড়া কর্তনকৃত টিলায় ধামালিপাড়ার সৈইর আলীও শরীক মালিক বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে আব্দুস শহীদের কেয়াটেকার নিজাম উদ্দিন বলেন, আমি টিলা কাটার সাথে জড়িত নই। কবিরের। তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। আমার মাধ্যমে ৩টি প্লট বিক্রি হয়েছে।