আজ ,

মাজারের দানবাক্সে দম্পত্তির চিঠি: ‘হে আল্লাহ আমাদের মিল-মহব্বত বৃদ্ধি করে দাও’

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ১১, ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মাজারের দানবাক্সে দম্পত্তির চিঠি: ‘হে আল্লাহ আমাদের মিল-মহব্বত বৃদ্ধি করে দাও’

‘হে আল্লাহ আমাদের মিল-মহব্বত বৃদ্ধি করে দাও’, আমাদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির অবসান করে দাও। এভাবেই মনের আশা পূরণে আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করে চিঠি লিখেছেন এক দম্পত্তি।

হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স (ডেক) থেকে টাকা গণনার সময় নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে বেশ কিছু চমকপ্রদ ও ব্যতিক্রমী হাতে লেখা চিঠি। এর মধ্যে যেমন রয়েছে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠি, তেমনি রয়েছে এক দম্পতির গভীর ভালোবাসা ও মনস্তাত্ত্বিক আরজির এক প্রেমপত্র।

শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সোয়া ১১টার দিকে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্স থেকে টাকা বের করে গণনা শুরু হয়। টাকা গণনার একপর্যায়ে মাজারের ঐতিহাসিক ডেকে ভক্তদের ফেলে যাওয়া এই চিঠিগুলো কর্মকর্তাদের নজরে আসে।

একটি চিঠিতে উঠে এসেছে এক দম্পতির পারিবারিক প্রেম ও জীবনযুদ্ধের গল্প। ‘আমিনুল + মুন্নি’ নামের এই দম্পতির হাতে লেখা চিঠিতে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে লেখা হয়েছে—তাদের মধ্যকার মিল-মহব্বত বাড়িয়ে দিতে এবং সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে।

চিঠিতে স্বামী লিখেছেন, “মুন্নি আমার বউ, তাকে আমি অনেক অনেক ভালোবাসি। মুন্নি + আমিনুল এর সম্পর্ক হাজার বছর ঠিক রাখার তৌফিক দাও।”

ভালোবাসার এই আকুতির পাশাপাশি চিঠিতে তারা সংসার জীবনে ‘আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার’ এবং ‘শত্রুদের হাত থেকে বাঁচার’ জন্য মাজারের ডেকে এই আরজিটি ফেলে যান।

এদিকে, ডেকে পাওয়া অপর একটি চিঠির শুরুতে লেখক লিখেছেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আমি জানি না আমার এই চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে কি না।’ এরপর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ লিখেন, ‘আমরা সবাই চাই আমাদের বাংলাদেশ সুন্দরভাবে এগিয়ে যাক। তবে ধর্ষণ, হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের ঘটনায় দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে।’

চিঠিতে বিশেষভাবে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। রামিসা, আছিয়া ও হাদীর ঘটনার বিচার দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিচার দীর্ঘসূত্রতায় না ফেলে দ্রুত নিষ্পত্তিরও দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া চিঠিতে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লেখকের ভাষ্য, ‘বিশেষ করে মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, আমার মনে হয় তাদের হাত অনেক বড়। না হলে তারা থানা ম্যানেজ করে কীভাবে? আমার মনে হয়, গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মাদকাসক্ত।’

চিঠির শেষাংশে ‘বাংলাদেশকে ভালোবাসি’ লিখে মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ নামে স্বাক্ষর রয়েছে।