আজ ,

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: মানুষ কি নিজের তৈরি ছায়ার কাছে পরাজিত হবে?

শাহ লাভলী রহমান
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: মানুষ কি নিজের তৈরি ছায়ার কাছে পরাজিত হবে?

মানুষ যখন প্রথম আগুন জ্বালিয়েছিল, তখন সে হয়তো জানত না এই আগুন একদিন সভ্যতার রান্নাঘরে আলো জ্বালাবে, আবার যুদ্ধের ময়দানে ধ্বংসের আগুনও হয়ে উঠবে। মানুষ যখন চাকা বানিয়েছিল, তখনও সে জানত না সেই চাকা একদিন মানুষকে মহাদেশ পেরিয়ে নিয়ে যাবে। প্রতিটি বড় আবিষ্কার মানুষের সামনে দুটি দরজা খুলে দেয়। একটির ওপারে সম্ভাবনা, অন্যটির ওপারে বিপদ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI সেই দুই দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তিগত বাস্তবতা। প্রশ্ন তাই শুধু AI কী করতে পারে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, মানুষ AI-কে দিয়ে কী করাবে এবং শেষ পর্যন্ত AI-র ওপর কতটা নির্ভর করবে।

কারণ ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বিপদ হয়তো কোন রোবটের হাতে বন্দুক নয়; বরং মানুষের নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাটি ধীরে ধীরে যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া। নতুন এক সভ্যতার দরজা হিসেবে AI ইতোমধ্যেই মানুষের জ্ঞান ও কাজের ধরন পাল্টাতে শুরু করেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, ব্যবসা, কৃষি, যোগাযোগ, অনুবাদ, সফটওয়্যার, সৃজনশীল কাজ অসংখ্য ক্ষেত্রে এটি মানুষের সক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। OECD-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে AI-কে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং নতুন ধরনের কাজ সৃষ্টি করার সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে দক্ষতার পরিবর্তন সামলাতে না পারলে চাকরি হারানো এবং বৈষম্য বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। (সূত্র: OECD) আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ২০২৫ সালের বৈশ্বিক বিশ্লেষণ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছে। বিশ্বের প্রায় প্রতি চারজন কর্মীর একজন এমন পেশায় রয়েছেন, যেখানে Generative AI-এর কিছু মাত্রার প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরো চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে কাজের ধরন বদলে যাওয়াই বেশি সম্ভাব্য। (সুত্র: International Labour Organization) অর্থাৎ AI হয়তো মানুষের কাজের শেষ নয়। বরং মানুষ কীভাবে কাজ করবে তার একটি নতুন অধ্যায়।

একজন চিকিৎসক হয়তো হাজার হাজার রিপোর্ট দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারবেন। একজন শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা শিক্ষণপদ্ধতি তৈরি করতে পারবেন। একজন গবেষক কয়েক ঘণ্টায় এমন তথ্য সাজাতে পারবেন, যার জন্য আগে কয়েক সপ্তাহ লাগত। একজন সাধারণ মানুষও হয়তো পৃথিবীর জ্ঞানের দরজায় এমনভাবে পৌঁছাতে পারবেন, যা মানবসভ্যতার ইতিহাসে আগে কখনো সম্ভব হয়নি। এ যেন মানুষের হাতে একটি নতুন প্রদীপ। কিন্তু প্রদীপের আলো যত উজ্জ্বল হয়, তার ছায়াটিও তত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে-চাকরি হারাবে মানুষ, নাকি বদলে যাবে মানুষের কাজ? শিল্পবিপ্লবের সময়ও মানুষ ভয় পেয়েছিল যন্ত্র মানুষের কাজ কেড়ে নেবে। কিছু কাজ সত্যিই হারিয়েছিল, আবার নতুন কাজও সৃষ্টি হয়েছিল। AI-এর ক্ষেত্রেও একই রকম পরিবর্তন ঘটতে পারে। কিন্তু এবার পরিবর্তনের গতি এবং পরিসর ভিন্ন হতে পারে। কারণ আগের যন্ত্র প্রধানত মানুষের শারীরিক শ্রমকে প্রতিস্থাপন করেছিল। AI মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের কিছু অংশেও প্রবেশ করছে। হিসাবরক্ষণ, ডেটা এন্ট্রি, অনুবাদ, কনটেন্ট তৈরি, প্রাথমিক গবেষণা, গ্রাহকসেবা, কোডিং অনেক কাজেই AI ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৬ সালের ILO গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, GenAI-এর উৎপাদনশীলতার সুফল বাস্তব হলেও তা সব জায়গায় সমান নয়; একই সঙ্গে কাজের সংগঠন, কর্মীর স্বায়ত্তশাসন, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং বৈষম্য নিয়ে নতুন ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। (সূত্র: International Labour Organization) তাই ভবিষ্যতের প্রশ্নটি হয়তো ‘AI কি মানুষের চাকরি খাবে?’ এত সরল নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত..

যে মানুষ আজকের কাজ হারাবে, আগামী দিনের কাজের জন্য তাকে কে প্রস্তুত করবে?

প্রযুক্তি যদি দ্রুত এগিয়ে যায়, কিন্তু শিক্ষা পিছিয়ে থাকে, তাহলে প্রযুক্তি মুক্তির দরজা না হয়ে বৈষম্যের দেয়াল হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং বিপদটা কি রোবটের আক্রমণ? সিনেমায় আমরা প্রায়ই দেখি একদিন বুদ্ধিমান রোবট মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। শহর দখল করেছে। মানুষকে শিকার করছে। বাস্তব পৃথিবীর ঝুঁকি হয়তো এত নাটকীয় নয়। আর সেই কারণেই হয়তো তা আরও গভীর। AI-এর মাধ্যমে ভুয়া ছবি তৈরি করা যায়। কণ্ঠস্বর নকল করা যায়। একজন মানুষের মুখ অন্য ভিডিওতে বসিয়ে দেওয়া যায়।

মিথ্যা তথ্যকে মানুষের কাছে সত্য বলে উপস্থাপন করা যায়। OECD ভবিষ্যৎ AI ঝুঁকির আলোচনায় misinformation, disinformation, fraud, digital impersonation এবং অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য deepfake-এর মতো সম্ভাব্য ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছে। (সূত্র: OECD) একটি মিথ্যা ছবি কখনো কখনো হাজার সত্যের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একটি নকল কণ্ঠস্বর কোন পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে পারে। একটি বানানো ভিডিও একজন নিরপরাধ মানুষের সামাজিক পরিচয় ধ্বংস করতে পারে। তখন AI মানুষের শরীরে আক্রমণ না করেও মানুষের বিশ্বাসের ওপর আক্রমণ করতে পারে। আর সভ্যতা শুধু ইট-পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। সভ্যতা দাঁড়িয়ে থাকে বিশ্বাসের ওপর।
AI কেবল অদৃশ্য কারাগার নয়, আরও একটি বিপদ আছে আর সেটা হচ্ছে নজরদারি।

মানুষ যত বেশি ডিজিটাল হবে, তার জীবন তত বেশি তথ্যের মধ্যে পরিণত হবে। সে কোথায় যায়, কী দেখে, কী কিনে, কী পছন্দ করে, কী অপছন্দ করে সবকিছু যদি অ্যালগরিদমের কাছে জমা হতে থাকে, তখন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনও একদিন একটি বিশাল তথ্যভাণ্ডারে পরিণত হতে পারে। সেখানে কারাগারের দেয়াল দেখা যাবে না। কিন্তু মানুষ হয়তো বুঝতেই পারবে না কখন তার আচরণকে কেউ পর্যবেক্ষণ করছে, কখন তার পছন্দকে কেউ প্রভাবিত করছে, আর কখন তার সিদ্ধান্তের চারপাশে অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়ে গেছে। OECD ইতোমধ্যে AI-সম্পর্কিত ঝুঁকি হিসেবে privacy infringement, bias, discrimination, surveillance এবং accountability-এর ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছে। (সূত্র: OECD) এখানে প্রশ্নটি প্রযুক্তির চেয়েও বড়। মানুষ কি প্রযুক্তির সুবিধার বিনিময়ে নিজের স্বাধীনতার কতটুকু বন্ধক রাখবে? AI কি মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে?

যে কোন শক্তির মতো AI-ও ভালো এবং মন্দ দুই উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা সম্ভব। একজন বিজ্ঞানী AI ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের নতুন পথ খুঁজতে পারেন। আবার একজন অপরাধী একই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে প্রতারণা বা সাইবার আক্রমণকে আরও কার্যকর করতে। একটি রাষ্ট্র AI ব্যবহার করতে পারে নাগরিকসেবা উন্নত করতে। আবার অত্যধিক নজরদারির জন্যও প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব। OECD-এর AI Futures বিশ্লেষণে ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে sophisticated cyberattacks, manipulation, disinformation, fraud, concentration of power, critical-system incidents এবং inequality-এর কথা বলা হয়েছে। (সূত্র: OECD) তাই AI নিজে কোন নৈতিক সত্তা নয়। নৈতিকতা নির্ধারণ করবে তার নির্মাতা, ব্যবহারকারী এবং তাকে ঘিরে থাকা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ। আগুনকে যেমন প্রশ্ন করা যায় না ‘তুমি কেন পুড়িয়েছ?’ তেমনি প্রযুক্তির দায়ের প্রশ্নে মানুষের দায়িত্বও অদৃশ্য হয়ে যায় না। কিন্তু মানুষ কোথায়? এখানেই প্রশ্নটি প্রযুক্তি থেকে দর্শনে চলে যায়।

মানুষ কি শুধু তার বুদ্ধি? যদি তাই হয়, তবে একদিন AI মানুষের চেয়ে দ্রুত হিসাব করতে পারলে মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্ব হারাবে।
মানুষ কি শুধু স্মৃতি? তাহলে বিশাল ডেটাবেসের সামনে মানুষের স্মৃতি তুচ্ছ।

মানুষ কি শুধু ভাষা? তাহলে AI ইতোমধ্যে বহু ভাষায় মানুষের সঙ্গে কথোপকথন করতে পারে।
তাহলে মানুষ কী? হয়তো মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার চেতনা। মানুষ ভুল করে এবং সেই ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়। মানুষ জানে সে একদিন মারা যাবে, তবুও সে ভালোবাসে। মানুষ জানে পৃথিবী তার নয়, তবুও সে একটি গাছ লাগায়, যার ছায়ায় হয়তো সে নিজে বসবে না। মানুষ নিজের সন্তানকে এমন ভবিষ্যৎ দিতে চায়, যে ভবিষ্যৎ সে নিজে দেখতে নাও পারে। এই আত্মত্যাগ, মমতা, অনুশোচনা, বিবেক, মৃত্যু-সচেতনতা এসবই মানুষের অস্তিত্বকে কেবল ‘তথ্য প্রক্রিয়াকরণ’ থেকে আলাদা করে। AI হয়তো মানুষের ভাষা অনুকরণ করতে পারবে। কিন্তু মানুষের অস্তিত্বের রহস্য কি কেবল ভাষার মধ্যে?

যন্ত্রের বুদ্ধি, মানুষের বিবেক সম্ভবত ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হবে শুধু AI literacy নয় নৈতিক literacy। আমাদের সন্তানদের শুধু AI ব্যবহার শেখালে হবে না; তাদের শেখাতে হবে কখন AI-কে বিশ্বাস করা যাবে না। তাদের শেখাতে হবে কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হয়। কীভাবে মিথ্যা ছবি শনাক্ত করতে হয়। কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করতে হয়। কীভাবে যন্ত্রের সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করতে হয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কখন মানুষকে নিজের বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ এমন এক পৃথিবীও সম্ভব যেখানে AI আমাদের হয়ে অনেক কিছু করবে, কিন্তু শেষ সিদ্ধান্তের দায়িত্ব থাকবে মানুষের। সেই দায়িত্বই সভ্যতার পরীক্ষা। এখন প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ কি AI-এর হাতে?

হয়তো ভবিষ্যৎ পুরোপুরি AI-এর হাতে যাবে না। আবার এটাও ধরে নেওয়া যায় না যে AI কেবল একটি নিরীহ যন্ত্র হয়েই থাকবে। বাস্তবতা সম্ভবত মাঝখানে। AI মানুষের জীবনের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যেতে পারে যে তাকে আর আলাদা প্রযুক্তি বলে মনে হবে না। যেমন আজ বিদ্যুৎকে আমরা আলাদা করে অনুভব করি না, কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে আধুনিক জীবন প্রায় থেমে যায়। AI-ও হয়তো একদিন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অদৃশ্য অবকাঠামো হয়ে উঠবে। তখন প্রশ্ন হবে না আমি AI ব্যবহার করব কি না? প্রশ্ন হবে ‘আমি কোন ধরনের AI-নির্ভর সমাজে বাস করতে চাই?’

AI আয়নার সামনে মানুষ? একদিন হয়তো মানুষ এমন এক প্রযুক্তি তৈরি করবে, যে প্রযুক্তি মানুষের ভাষা বুঝবে, ছবি চিনবে, পরিকল্পনা করবে, বিশ্লেষণ করবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে। তখন মানুষ নিজের তৈরি যন্ত্রের দিকে তাকিয়ে হয়তো প্রথমবার বুঝবে যন্ত্রটি আসলে তার শত্রু নয়। যন্ত্রটি তার আয়না। মানুষের জ্ঞান সেখানে প্রতিফলিত হবে, তার সৃজনশীলতা প্রতিফলিত হবে, তার লোভও প্রতিফলিত হবে, তার পক্ষপাতও, তার যুদ্ধও, তার স্বপ্নও, তার ভয়ও ইত্যাদি। AI আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করবে কি না এই প্রশ্নের উত্তর আজ কেউ নিশ্চিতভাবে দিতে পারে না। কিন্তু একটি বিষয় আমাদের হাতে আছে।

আমরা AI-কে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করব এবং তার চেয়েও বড় কথা, নিজেদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করব। কারণ প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বিপদ প্রযুক্তি নয়। সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, মানুষ যখন নিজের তৈরি শক্তির কাছে নিজের বিবেকের চাবিটিও দিয়ে দেয়। তাই আগামী দিনের পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান মানুষ হয়তো সে হবে না, যে সবচেয়ে বেশি AI ব্যবহার করতে পারে। সবচেয়ে মূল্যবান হবে সে…

যে জানে কখন AI-এর কথা শুনতে হবে, কখন তাকে প্রশ্ন করতে হবে, আর কখন নীরবে নিজের বিবেকের কাছে ফিরে যেতে হবে। হয়তো সেদিন মানুষ বুঝবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা AI-এর জন্য নয়। পরীক্ষাটি মানুষের, কারণ শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যৎ যন্ত্র লিখবে না। ভবিষ্যৎ লিখবে মানুষ, যদি সে তার কলমটি এখনও নিজের হাতে রাখতে পারে।

লেখক: প্রবাসী কবি ও লেখক