আজ ,

একদিনে সিলেটে ৫ জনের প্রাণহানি

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০২:২০ অপরাহ্ণ
একদিনে সিলেটে ৫ জনের প্রাণহানি

মহান বিজয় দিবসের দিন মঙ্গলবার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটে অন্তত পাঁচজনের নিহত হয়েছেন ঘটেছে।

নিহতদের মধ্যে পর্যটক, আনসার সদস্য ও মোটরসাইকেল আরোহী রয়েছেন। এছাড়া সিলেট নগরী থেকে দুইজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার ও করিচের পুলের মধ্যবর্তী স্থানে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পর্যটকবাহী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোহাম্মদ জিহাদ (২০) নামে এক যুবক নিহত হন এবং এসময় অন্তত ১১ জন আহত হন।

নিহত জিহাদ নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ এলাকার নুরুল হক নুরার ছেলে। পুলিশ জানায়, বাসটি পর্যটক নিয়ে সিলেটের জাফলং এলাকায় যাচ্ছিল। খবর পেয়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

একইদিন সকালে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার ৭ নম্বর কূপ সংলগ্ন সিকারখাঁ এলাকায় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও পর্যটকবাহী হাইয়েস গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর হাইয়েসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি দোকানের বারান্দায় উঠে গেলে সেখানে অবস্থানরত আনসার সদস্য মোস্তফা চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

নিহত মোস্তফা শেরপুর জেলার নকলা থানার বারৈকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং হরিপুর গ্যাস ফিল্ডে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় সিএনজি চালকসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই দুই ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, ‘দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।’
অন্যদিকে হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের আতুকুড়া এলাকায় মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শরীফ মিয়া (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি ইউনিয়নের বাসিন্দা।

দুর্ঘটনায় আহত সৌরভ মিয়া ও ফরহাদ মিয়াকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শরীফ মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন।

ওই দিন মঙ্গলবার সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন পশ্চিম পীর মহল্লা এলাকা থেকে তোফায়েল আহমদ (৪৬) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে।
পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তোফায়েল আহমদকে বসতঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।

এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাহ মো. মোবাশ্বির জানান, ‘ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় পাঁচ পীরের মাজারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’