আজ ,

রোজা ও পুরস্কার

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত মার্চ ৬, ২০২৫, ০৪:০৭ অপরাহ্ণ
রোজা ও পুরস্কার

লিখেছেন-মুফতি হাবিবুর রহমান :: পবিত্র রমজান মাস মহান আল্লাহর সঙ্গে প্রিয় বান্দার প্রেম বিনিময়ের সবচেয়ে উত্তম সময়। এটা ধৈর্য্যের মাস। ধৈর্য্যের সওয়াব হলো বেহেশত। এটা জাহান্নাম থেকে মুক্তির এবং জান্নাত লাভের মাস।এ মাসে আমলের কারণে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে পুরস্কৃত করবেন। পবিত্র কুরআন ও হাদিস ঘাটলে তা প্রতীয়মান হয়।

রোজাদারকে আল্লাহ পুরস্কৃত করবেন যেভাবে-
(১) রোযাদারের জন্য স্পেশাল দরজা থাকবেঃ
হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) এরশাদ করেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।- সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৮৯৬

(২) রোযাদারকে কেয়ামতের দিন পানি পান করাবেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাঃ
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন,
আল্লাহ তাআলা বলেন, রোযা আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব। কেয়ামতের দিন রোযাদারদের জন্য একটি বিশেষ পানির হাউজ থাকবে, যেখানে রোযাদার ব্যতীত অন্য কারো আগমন ঘটবে না।-মুসনাদে বাযযার, হাদীস : ৮১১৫

(৩) রোযাদারের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়ঃ
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা.ইরশাদ করেছেন-
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযান মাসের রোযা রাখবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সহীহ মুসলিম ৭৬০(১৬৫)

(৪) রোযাদারের মুখের গন্ধ মিশকের চেয়েও সুগন্ধিযুক্তঃ
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন-সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন, রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৯০৪

(৫) রোযাদারের দুআ কবুল হয়ঃ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত,
রাসূল সা.ইরশাদ করেছেন- ইফতারের সময় রোযাদার যখন দুআ করে, তখন তার দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (অর্থাৎ তার দুআ কবুল হয়)।-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৫৩

(৬) রোযাদার পরকালে সিদ্দীকীন ও শহীদগণের দলভুক্ত থাকবেঃ
হযরত আমর ইবনে মুররা আলজুহানী রা. হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল সা.-এর দরবারে এসে বললো,ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি একথার সাক্ষ্য দিই যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং অবশ্যই আপনি আল্লাহর রাসূল, আর আমি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করি, যাকাত প্রদান করি, রমযান মাসের সিয়াম ও কিয়াম
(তারাবীহসহ অন্যান্য নফল) আদায় করি তাহলে আমি কাদের দলভুক্ত হব? তিনি বললেন, সিদ্দীকীন ও শহীদগণের দলভুক্ত হবে।-সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৪২৯

(৭) রোযাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্তঃ
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা.ইরশাদ করেছেন, রোযাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে, যখন সে আনন্দিত হবে। এক. যখন সে ইফতার করে তখন ইফতারের কারণে আনন্দ পায়। দুই. যখন সে তার রবের সাথে মিলিত হবে তখন তার রোযার কারণে আনন্দিত হবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, যখন সে আল্লাহর সাথে মিলিত হবে, আর তিনি তাকে পুরস্কার দিবেন, তখন সে আনন্দিত হবে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৯০৪, ১৮৯৪

(৮) রোজাদার আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেঃ
হযরত আবু উমামা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন কোনো আমলের আদেশ করুন, যার দ্বারা আল্লাহ তাআলা আমাকে উপকৃত করবেন। তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ, কেননা তার তুলনা হয় না।-সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ২৫৩১

(৯ ) রোজাদারের প্রতিদান আল্লাহ নিজে দিবেনঃ
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সা.ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন, বান্দা একমাত্র আমার জন্য তার পানাহার ও কামাচার বর্জন করে, রোযা আমার জন্যই, আমি নিজেই তার পুরস্কার দিব আর (অন্যান্য) নেক আমলের বিনিময় হচ্ছে তার দশগুণ।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৮৯৪
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের রোজা রেখে জান্নাত লাভের তৌফিক দান করেন। আমীন।

লেখক: ইসলামি আলোচক