আজ ,

ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২৪, ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্সে গরম থেকে স্বস্তি পেতে পানিতে নামতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশই নজরদারিবিহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাজ্য ও স্পেনেও তাপমাত্রা অতীতের বহু রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার এক জরুরি বৈঠকের পর ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই তরুণ। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেন।

দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লে হার্বিয়ার্স এলাকায় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও পরে তাদের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বোর্দো অঞ্চলে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী তিন বৃদ্ধ অতিরিক্ত গরমজনিত অসুস্থতায় প্রাণ হারান।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (আইএফআরসি) সতর্ক করে বলেছে, চলমান তাপপ্রবাহ অনেক মানুষের জন্য জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটি জনগণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালের পর দেশটি এত তীব্র গরমের মুখে পড়েনি। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জনসেবামূলক ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশের ৫৪টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনেক স্কুল নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রচণ্ড গরমের কারণে প্যারিসের লুভর জাদুঘর এবং আইফেল টাওয়ার নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মতে, বিকেলের তাপমাত্রা ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্বাভাবিকভাবে ভ্রমণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। এমন হলে ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালের রেকর্ড ভেঙে যাবে। স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ইতালিও তীব্র গরমের প্রভাবে ১৫টি শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ আবহাওয়াগত অবস্থার কারণে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে আসা উষ্ণ বায়ু ইউরোপের ওপর স্থির হয়ে রয়েছে। বাতাসের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গরমের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে।