এআই ব্যবহার সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন না করলে ভবিষ্যতে গণমাধ্যমকর্মীরা পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়বেন বলে জানিয়েছেন প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা।
রোববার (৩ মে) সকালে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘AI-Powered Journalism: Opportunities, Risks and Digital Security’ শীর্ষক কর্মশালায় তারা এ কথা জানান।
এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাইয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ৮ মে পর্যন্ত।
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সাত দিনে মোট সাতটি ব্যাচে ডিআরইউ সদস্যরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
রোববার প্রায় ৫০ জন সংবাদকর্মী এ প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল নোটবুকএলএম ব্যবহারে। গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং দ্রুত কনটেন্ট তৈরিতে এর কার্যকারিতা প্রশিক্ষণার্থীদের মুগ্ধ করে।
বিশেষ করে ডকুমেন্ট থেকে ইনসাইট বের করা এবং সারাংশ তৈরির বিষয়টি ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণে সাংবাদিকতায় এআই এর মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে বাস্তব প্রয়োগ হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা শিখছেন কীভাবে এআই টুল ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ, রিপোর্ট লেখা, সম্পাদনা এবং আকর্ষণীয় শিরোনাম তৈরি করা যায়। পাশাপাশি ভুয়া তথ্য, অপতথ্য ও ডিপফেইক শনাক্তকরণ এবং ফ্যাক্ট-চেকিং টুল ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও আলোচনায় রয়েছে।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, তথ্যের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি ভুয়া তথ্যের ঝুঁকিও বেড়েছে। এআই সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে সাংবাদিকরা পিছিয়ে পড়বেন। তাই এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, ডিপফেইক ও ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় সাংবাদিকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। আমরা দায়িত্বশীল ও প্রযুক্তি-সচেতন সাংবাদিক সমাজ গড়ে তুলতে চাই।
প্রথম দিনের সেশনে ঢাকা পোস্টের হেড অব নিউ মিডিয়া আরিফুল ইসলাম আরমান জেমিনি, চ্যাটজিপিটি ও গুগল এআই স্টুডিওসহ বিভিন্ন টুলের ব্যবহার তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) সহকারী অধ্যাপক মালিহা তাবাসসুম ডেটা সাংবাদিকতা ও তথ্য বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করেন।
দিনের শেষ সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এমডি সাইফুল আলম চৌধুরী।
তিনি ডিজিটাল রিপোর্টিং, সোশ্যাল মিডিয়া স্টোরিটেলিং এবং গুগল ট্রেন্ডস ব্যবহারের মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলার কৌশল ব্যাখ্যা করেন।
ডিআরইউর তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে সদস্যরা এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। হাতে-কলমে শেখার সুযোগ থাকায় এটি তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে এআই-ভিত্তিক দক্ষতা ছাড়া পেশাগত উন্নতি প্রায় অসম্ভব। তাই দ্রুত এই প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোই সাংবাদিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এআই ব্যবহার সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন না করলে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম কর্মীরা পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়বেন।