মরা মোরগ বিক্রির প্রতিবাদ করায় মব সৃষ্টি করে বিশ্বনাথে মানবজমিনের প্রতিনিধিকে লাঞ্ছিত করেছে মোরগ ব্যবসায়ীরা। সাংবাদিক আক্তার আহমদ শাহেদ মরা মোরগের ভিডিও করায় তাকে মারধর করে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ তাকে জিম্মি দশা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আনে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১টায় বিশ্বনাথ পৌরশহরের পুরানবাজারে এ ঘটনা ঘটে। মবের শিকার আক্তার হোসেন শাহেদ দৈনিক মানবজমিনের পাশাপাশি এনটিভি ইউরোপ’র বিশ্বনাথ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। পরে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভিকটিম সাংবাদিক।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন একটি বয়লার মোরগ কিনতে বিশ্বনাথ পৌরশহরের পুরানবাজারের ‘তানিয়া পোল্ট্রিফার্ম নামক দোকানে যান আক্তার আহমদ শাহেদ। ওই দোকানে জবাই ছাড়া একটি মরা মোরগ ড্রামের ভেতর দেখতে পান। দোকান মালিক উপজেলার সরিষপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে রাহিম আহমদের কাছে কারণ জানতে চাইলেই তিনি ক্ষেপে যান।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই দোকান কর্মচারীসহ একাধিক ব্যক্তি মব সৃষ্টি করে তার উপর হামলে পড়েন। তারা সাংবাদিকের গলায় মোরগ জবাই করার চাকু ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে মারপিট করেন। এসময় সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ ১০ হাজার ৫শ টাকা ছিনিয়ে নেয়। অবরুদ্ধ করে রাখা হয় খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই তারা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
সাংবাদিক আক্তার আহমদ শাহেদ অভিযোগ করে বলেন, মোরগ কিনতেই আমি ওই দোকানে গিয়েছিলাম। যেখানে মোরগ জবাই করে রাখা হয়, সে স্থানে জবাই ছাড়া একটি মরা মোরগ দেখে কারণ জানতে চাইলে হামলার শিকার হই।
বিশ্বনাথ থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা খবর পেয়ে ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করেছি। পরে সাংবাদিক নেতারাও ঘটনাস্থলে এসেছেন। এ ঘটনায় ভোক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।