গত ১৬ জুন, মঙ্গলবার সিলেট নগরীতে পুলিশের সামনেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনার ৬ দিন পর (২৩ জুন) শিবগঞ্জ পয়েন্ট থেকে এম. মামুন আহমদকে আটক করে পুলিশ।
সিলেট জনতা ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সামাজিক দাবী দাওয়া আন্দোলনের মধ্যদিয়ে নব্বই দশকে বৃহত্তর শিবগঞ্জ এলাকায় সামাজিক কাজ করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন এম মামুন আহমদ।
নবারুন ১৬ এর বাসিন্দা মরহুম কালা মিয়ার বড় ছেলে এম. মামুন আহমদ একজন ব্যবসায়ী। মাসুদ লাইটিং এর পরিচালক ছিলেন তিনি।
বয়স আর অসুস্থতার দরুণ ব্যবসা বাদ দিলেও নিজের দোকানপাট ভাড়া দিয়ে দেন। বন্ধুত্বের পরিধি ব্যাপক। অত্র ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিন, কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, সোনারপাড়া এলাকার কৃতী সন্তান, যুব সমাজের অহংকার মরহুম সাহেদুর রহমান সাহেদ, ও মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদারসহ ৫০এর বেশী তাদের ফ্রেন্ড সার্কেল। যাদের প্রত্যেকের নিজস্ব মতাদর্শ, পেশা রয়েছে ভিন্ন।
তাদের বন্ধুত্বের মধ্যে ছিল না কোনো রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা। যে যার মতো রাজনীতি করলেও বন্ধুত্বের প্রশ্নে সবাই এক কাতারে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন সব সময়।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের হাতে ফুল দেন, নৌকা তোলে দেন। এটা ছিল একটি সামাজিক শিষ্ঠাচার। এম. মামুন আহমদ ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাদে এমনটাই করেছিলেন।
হার্ট এবং কিডনিজনিত রোগে দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ মামুন আহমদ। এলাকায় একেবারে নিরীহভাবে যার পদচারণা। কখনো কারো সাথে ঝামেলায় জড়ান নি, বরং সব সময়ই ঝামেলা থেকে নিজেকে দূরে রেখে চলেছেন।
গত ২৩ জুন দিন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। এর খবর চাউর হয়েছে ফেসবুকে। একটি পেইজে এম মামুন আহমদকে যুবলীগ ক্যাডার বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি নাকি মামুন নিচ্ছিলেন এমতাবস্থায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তার সহযোগীরা পালিয়েছে বলেও ওই পেইজের পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

যা একেবারে তথ্যবিভ্রাট, ভুয়া ও ভিত্তিহীন। এই ব্যাপারে শাহপরান রহ. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ এর সাথে আমার কথা হয়। আমি তাকে শিবগঞ্জে মিছিল এর প্রস্তুতিকালে কয়জনকে গ্রেফতার করা হয় মর্মে প্রশ্ন করি। ওসি জবাবে বলেন কীসের মিছিল। কোনো মিছিলের প্রস্তুতি কেউ নেয় নি। আমরা এম. মামুন আহমদসহ ২জনকে আটক করেছি তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে তাই।
এম মামুন আহমদ এখন যুবলীগ ক্যাডার হয় কীভাবে। অসুস্থ মামুন আহমদের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এমন গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে। পরিবার চ্যালেঞ্জ করেছে কেউ যদি মামুন আহমদকে যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা দেখাতে পারে তাহলে তারা যেনো প্রমাণ দেয়।