মাজার কর্তৃপক্ষের আপত্তি আর অসন্তোষের মধ্যেই সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে।
মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সোমবার দুপুরে মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়।
সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে টাকা ঘননা শুরু হয়। তবে গণনা শুরুর কিছু সময় পরই সারওয়ার আলম চলে যান। সন্ধ্যা ৬ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গণনা চলছিলো।
সংশ্লিস্টরা জানান, গতিতিনে মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া টাকা গণনা চলছে। মোট ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক গণনার কাজ করছেন। আরও ২/৩ জন আছেন তদারকিকে। এছাড়া দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এতে সহযোগীতা করছেন।
তদারকির কাজে যুক্ত একজন জানান, জোহরের নামাজের পর পর গণনার কাজ শুরু হয়। মেশিন দিয়ে টাকা গোনা হচ্ছে। এখনও তা চলছে।
তিনি বলেন, দানবাক্সের মধ্যে স্বর্ণ আছে, রিয়াল, ডলার, পাউন্ডও আছে। স্বর্ণের চেইন, আংটি থেকে শুরু করে ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরো রয়েছে দানবাক্সে।
তিনি আরও বলেন, দানবাক্সে বেশিরভাগই এক হাজার ও ৫০০ টাকার নোট। এছাড়া ১০০/৫০ বা ১০/২০ টাকারও অনেক নোট রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। একইসাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে দানবাক্স বসানো হয়েছে। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার কথা বলে ডেগ সিলাগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিজস্ব দানবাক্স স্থাপন করা হয়।
তবে এ নিয়ে মাজার সংশ্লিস্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রোববার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
তবে সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার তড়িঘড়ি করে তিনি দানবাক্সের টাকা গোণার কাজ শুরু করেন। যদিও এরআগে জেলা প্রশাসক জানিয়েছিলেন, ১৫ দিন পর দানবাক্সের টাকা গণনা করা হবে।