সিলেটে র্যাব সদস্য নিহতের ঘটনার পর নগরীজুড়ে পুলিশের ৩২ ঘণ্টার অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহে ২৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ২৪ ঘন্টায় (২২ মে) পরিচালিত অভিযানে ৬৭ জন এবং আজ শনিবার (২৩ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত আরও ১৬৬ জনকে আটক করা হয়। এ নিয়ে মোট ২৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। মহানগরের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও গোয়েন্দা বিভাগ পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে আটক করে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, জুয়াড়ি, চোরাচালানকারী, কিশোর গ্যাং সদস্য, দালাল এবং ভেজাল খাদ্য প্রস্তুতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে, একই সময়ে ট্রাফিক বিভাগের অভিযানে ১শ টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সিলেট নগরের কিন ব্রিজ এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন র্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্য। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাব ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের ধাওয়া চলাকালে সাদা পোশাকে থাকা ইমন আচার্য পুলিশকে সহায়তা করতে এগিয়ে যান। এ সময় আসাদুল আলম বাপ্পী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আসাদুল আলম বাপ্পীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, তার কাছ থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তোপখানা এলাকার একটি বাসায় ঢুকে এক শিশুকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। পরে যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের আশ্চর্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইমন আচার্য মাত্র তিন মাস আগে বিয়ে করেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।