আজ রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গোয়াইনঘাটে চাঞ্চল্যকর দাদি খু★নে★র মূল আসামি আটক

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১৭, ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ণ
গোয়াইনঘাটে চাঞ্চল্যকর দাদি খু★নে★র মূল আসামি আটক

গোয়াইনঘাটে দিলারা বেগম খুনের ঘটনায় জড়িত মূল আসামিকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বীরমঙ্গল হাওরের মাটিকাঁপা গ্রামে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক কিশোরীকে তোলে নেওয়ার চেষ্টায় বাঁধা প্রদানকারী দিলারা দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

র‌্যাব-৯ সিলেটের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার হওয়া হারুন রশিদ (৩৫) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রবল বর্ষণের সুযোগ নিয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত নয়াপাড়া (বীরমঙ্গল হাওর) এলাকার একটি বসতঘরে প্রবেশ করে।

এসময় তারা ঘরে থাকা কিশোরী হাবিবা আক্তারকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। হাবিবার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

একপর্যায়ে হাবিবার দাদি দিলারা বেগম বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের ডান পাশে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলায় আহত হাবিবা আক্তার বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়াইনঘাট থানায় রোববার একটি হত্যা মামলা (নং-১২) দায়ের করা হয়েছে।

 দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় এ মামলাটি রুজু করা হয়। মামলার তদন্ত দায়িত্ব পালন করছেন থানার এসআই (নিঃ) কাজী আশরাফুল হক।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত হারুন রশিদের সঙ্গে নিহত পরিবারের ছেলে আম্বিয়া আহমদের পূর্ব থেকে আর্থিক লেনদেন ও বিরোধ ছিল। সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। পরে র‌্যাব-৯-এর সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল আসামিকে তার ফুফুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন,ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এদিকে শান্ত হাওরাঞ্চলে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১