আজ ,

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত সাড়ে সাতশ’

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ণ
নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত সাড়ে সাতশ’

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০-এ দাঁড়িয়েছে এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

রবিবার (৩০ আগস্ট) কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের বরতে তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদুলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

নেপালে শত শত বিদেশী নাগরিকসহ ২ হাজার ৪৯৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী, ৫৮৯ জন বিদেশী নাগরিক এবং বিদেশী পর্যটকদের সঙ্গে ভ্রমণকারী ১২৭ জন নেপালি।

প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৮ হাজার ১৮৬ জনকে উদ্ধার করেছেন। হেলিকপ্টার পরিষেবার মাধ্যমে ২৭৯ জন জলবিদ্যুৎ কর্মী ও ২২৭ জন বিদেশী নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল আবি নারায়ণ কাফলে জানান, বন্যার পানিতে মৃতদেহগুলো যে দূরত্বে ভেসে গেছে, তাতে শনাক্তকরণ বিশেষভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “উদ্ধারকৃত অনেক মৃতদেহ বিকৃত, আংশিক বা খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যার ফলে চাক্ষুষ শনাক্তকরণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক দেহাবশেষ দুই থেকে তিন দিন ধরে পুরু কাদা ও পানির নিচে চাপা পড়েছিল।”

অঞ্চলের দুর্গম ভূখণ্ড, খাড়া পর্বত এবং সংকীর্ণ গিরিখাতের কারণে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে পড়েছে। নেপাল সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার, জীবিতদের শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, ফরেনসিক ও ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং উদ্ধারকৃত মৃতদেহ সংরক্ষণের সরঞ্জামের জন্য বিশেষায়িত সহায়তা চেয়েছে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ১০ হাজার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ হিমালয়ে সদ্য সৃষ্ট একটি হ্রদের ওপরও নিবিড় নজর রাখছে, যা আরেকটি বন্যার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হ্রদটি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে পানি ছাড়ার পর এখন ‘কার্যত শুকিয়ে গেছে’, যা অবিলম্বে নতুন করে জলস্ফীতির উদ্বেগ কমিয়েছে।

বুধবার চীন-নেপাল সীমান্ত অঞ্চলে হঠাৎ হিমবাহ ধসে হিমালয়ের উপত্যকা জুড়ে পানি ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত বয়ে যায়, যা গ্রাম ধ্বংস করে এবং প্রধান অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি করে। হাসপাতালের মর্গে জায়গা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এবং উদ্ধারকৃত দেহাবশেষ পচন ধরতে শুরু করায় কর্তৃপক্ষ প্রমাণ সংরক্ষণ ও মৃতদেহ রাখার জন্য জায়গা খুঁজে বের করতে দ্রুত কাজ করছে।