আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে নেপাল পুনর্গঠনে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৯ হাজার ৩২০ কোটি থেকে ৬১ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা) প্রয়োজন হতে পারে। প্রাথমিক হিসাবে এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে।
আজ শনিবার রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী। এই অর্থ নেপালের মোট অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান।
স্বর্ণিম ওয়াগলে বলেছেন, ‘প্রাথমিক হিসাবে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার। এটি শুধু একটি অনুমান।’
‘২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনে যে অর্থ প্রয়োজন হয়েছিল, এবার তার তুলনায় অনেক কম অর্থ লাগবে। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানের পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে’, বলছিলেন স্বর্ণিম ওয়াগলে।
এর আগে গত বুধবার হিমালয় এলাকায় একটি হিমবাহ ধসে ভয়াবহ সৃষ্টি হয় বন্যার। এতে পাহাড়ি নদীগুলো দিয়ে নেমে আসে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ।
এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন।
নেপালের নুয়াকোট জেলার দেবীঘাটে বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন নারীরা। ছবি : রয়টার্সবন্যার পানিতে সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন শহর ও জনপদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে সেতু ও সড়ক। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্রও।
তবে এবার পুনর্গঠনে কেন ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের তুলনায় কম অর্থ প্রয়োজন হবে, তা বিস্তারিত জানাননি নেপালের অর্থমন্ত্রী।
২০১৫ সালে দেশটিতে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেটিই ছিল নেপালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হন। ধ্বংস হয় ৫ লাখের বেশি বাড়িঘর। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল নেপালের অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান। পুনর্গঠনে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছিল।
এবারের বন্যাও নেপালের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। দেশটির অর্থনীতি মূলত প্রবাসী আয়, পর্যটন ও জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প। এসব প্রকল্প থেকে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশের বেশি আসে।
সূত্র : রয়টার্স