দুই বছরের আইনী জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট অনুষ্ঠিত হবে ৫ নভেম্বর।
সোমবার বিকেলে চেম্বার অব কমার্সের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) আয়েশা আক্তার। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৩ সেপ্টেম্বর, এই তালিকার বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিলের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং আপত্তি নিষ্পত্তি হবে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২০ সেপ্টেম্বর।
এরআগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন বোর্ডের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) আয়েশা আক্তার। বোর্ডের অন্য দুই অবশেষে তফসিল ঘোষণা হলেন সহকারী কমিশনার তানভীর আহমেদ সজীব এবং সহকারী কমিশনার লাবণ্য ইসলাম।
এ ছাড়া নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ রানা। আপিল বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ পারভেজ এবং মাসুমা ইসলাম লোনা।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা আরও বলেন, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদি এই পরিচালনা পরিষদে একজন সভাপতি, একজন সিনিয়র সহ-সভাপতি, একজন সহ-সভাপতি এবং ২৪ জন পরিচালকসহ মোট ২৭ সদস্য নির্বাচিত হবেন।
ব্রিফিংয়ে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আয়েশা আক্তার ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করা যাবে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩ অক্টোবর।
মনোনয়নপত্র বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী আপিল বোর্ডের কাছে আপত্তি জানাতে পারবেন, যার শুনানি ও নিষ্পত্তি চলবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে। বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নোটিশ দেওয়া হবে ১২ অক্টোবর।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত। প্রত্যাহারের পর একই দিন প্রকাশ করা হবে বৈধ মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা।
তাছাড়া ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফলের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল করা যাবে ভোটের দিন থেকে পরবর্তী কয়েক দিন, যার শুনানি ও নিষ্পত্তি চলবে এর পরের সপ্তাহে। সবশেষে নির্বাচন বোর্ড কর্তৃক চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে ১০ নভেম্বর বিকেলে।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আয়েশা আক্তার বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখের ৮০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। ভোটের ৬০ দিন আগে পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ করে সদস্যপদ নবায়ন করলে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। ৫ নভেম্বরের ভোট তারিখ থেকে হিসাব করে ৬ সেপ্টেম্বরকে সদস্য নবায়নের শেষ দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর পরে যাঁরা সদস্যপদ নবায়ন করবেন, তাঁরা এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।
চেম্বার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী সংগঠনটিতে বর্তমানে সাড়ে তিন হাজার ভোটার রয়েছেন। ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাহমিন আহমদ সভাপতি, মো. এমদাদ হোসেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও এহতেশামুল হক চৌধুরী সহসভাপতি মনোনীত হন। এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হন ২২ জন।
২০২৫ সালের ১ নভেম্বর সিলেট চেম্বারের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তফসিল ঘোষণা, মনোনয়ন যাচাইসহ নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। নির্বাচনে দুটি প্যানেল সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ও সিলেট ব্যবসায়ী ফোরাম থেকে মোট ৪২ জন প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু ওই বছরের ২৬ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-১ শাখার উপ-সচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, সদস্যপদ পুনরায় যাচাই-বাছাই করে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৭মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
ওই সময় ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি উল্লেখ করে পুনরায় যাচাই-বাছাই করে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে একটি আবেদন করেন চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুজ্জামান চৌধুরী দুলু। আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি পাঠান সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম। এই চিঠির প্রেক্ষিতেই নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
এর প্রেক্ষিতে চেম্বার নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল ব্যবসায়ী ফোরাম হাইকোর্টে নির্বাচনের স্থগিতাদেশ নিয়ে রিট করলে গেল ২৯ অক্টোবর আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করার অনুমতি দেন। কিন্তু হাইকোর্টের কপি না পৌঁছানোর কারণে ১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হয়নি। ফলে এতোদিন প্রশাসক দিয়ে চলে সিলেটের বৃহৎ এই ব্যবসায়ী সংগঠনটির কার্যক্রম।
সোমবার সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও চেম্বার প্রশাসক পিংকী সাহা আরও বলেন, আদালতে মামলা জটিলতা কাটিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পূর্বের নির্বাচনে যারা মনোনয়ন কিনেছিলেন, তাদেরকেও নতুন করে মনোনয়নপত্র কিনতে হবে। সে ক্ষেত্রে আগের মনোনয়পত্রের প্রদেয় অর্থ ফেরত পাওয়ার কোনো বিধান নেই।