আর্সেনালকে হারিয়ে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন (পিএসজি) চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পর শনিবার রাতে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। ফরাসি পুলিশ জানিয়েছে, এসব সংঘর্ষে জড়িত ৭৮০ জনকে আটক করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুয়েজ জানিয়েছেন, সহিংসতার ঘটনায় ৫৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তবে বেশির ভাগেরই আঘাত সামান্য।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ফুটবল ভক্তরা বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং দোকানপাট ভাঙচুর করে। এমনকি একটি ছোট দল প্যারিসে পুলিশ স্টেশন দখলের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি এখন বড় অংশে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানীজুড়ে বেশির ভাগ উদযাপন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। তবে সহিংসতার অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে শঁজেলিজে এলাকা এবং পশ্চিম প্যারিসে পিএসজির পার্ক দে প্রিন্স স্টেডিয়ামের কাছে। এসব এলাকায় ভক্তরা ম্যাচ দেখার জন্য জড়ো হয়েছিলেন।
নুয়েজ জানান, ফ্রান্সের প্রায় ১৫টি শহরে সহিংসতা ঘটনা ঘটেছে। প্যারিসের বাইরে তিনি ‘এক-দুটি’ দোকান ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করেন। মোট ৭৮০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের ৪৮০ জন প্যারিসে।
প্যারিসের প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, মোট ২৭৭ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। আনীত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে পুলিশের ওপর আক্রমণ, চুরি, ভাঙচুর ও জনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন সৃষ্টি।
সংঘর্ষের সময় এক গাড়িচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি রেস্তোরাঁর টেরেসে ধাক্কা দেন। এতে দুজন আহত হন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
তবে তিনি বলেন, আজ বিকালে আইফেল টাওয়ারের কাছে শঁ দ্য মার্সে পিএসজির বিজয় উদযাপনের অনুষ্ঠানটি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আয়োজন হবে। এরপর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে এলিসে প্রাসাদে দেখা করবেন খেলোয়াড়রা।
ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএম (প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, পিএসজির পার্ক দে প্রিন্স স্টেডিয়ামের আশপাশে সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে, যেখানে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বুদাপেস্টের পুস্কাস আরেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি বড় স্ক্রিনে দেখে ক্লাবের টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয় উদযাপন করছিল।
ফ্রান্স শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজধানীতে ২২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছিল। গত বছর পিএসজি প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পর দুজন নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছিল।