লিবিয়া থেকে নৌকায় গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে পথ হারিয়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অন্তত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ৫ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্ন হাওর অঞ্চলের অনেক যুবকদের। তবে সেই প্রবাস পাড়ি দেওয়ার পথটি ইতোমধ্যে অনেকেই দালালের মাধ্যমে বেঁচে নিচ্ছেন। ফলে উন্নত জীবন তো দূরের কথা সেই প্রবাসে যেতে গিয়ে কেউ মাফিয়া চক্রের পাল্লায় পড়েছেন, কেউবা কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরছেন আবার কেউবা চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছেন সমুদ্রের গভীর নোনাজলে।
আজিজুল সহ কয়েকজন দালাল মিলে চুক্তি করে লিবিয়া থেকে গ্রীসে নেওয়ার কথা বলে। তারা আগে ভাগে টাকা নিয়ে যায়। সেখানে অভিবাসন প্রত্যাশীদের উপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করা হত। নির্যাতনের কথা তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে।
রানীগঞ্জ ইউনিয়নের তিয়ারগাঁও গ্রামের আখলু মিয়ার ছেলে শায়েখ আহমদ (২২) তার ছেলের মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি দালালের শাস্তি চান, তিনি বলেন, দালাল আমার ছেলেকে যেভাবে পাঠানো কথা সেভাবে পাঠায় নাই। আমার ছেলে দালালের নির্যাতনের কথা আমাদের বার বার বলেছিল। আমি ঋণ করে জায়গা জমি বিক্রয় করে টাকা দিয়ে পাঠিয়েছিলাম। আজ আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমি বর্তমান সরকারের কাছে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।
একই ইউনিয়নের ইছগাঁও (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে আলী আহমদ (২৭) মৃত্যু বরণ করায় দিশেহারা হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে মেয়েকে নিয়ে সাজানো সংসার ছিল। ঋণ করে টাকা জোগাড় করে ছেলেকে দালালের মাধ্যমে গ্রিসে পাঠাই। সেই ছেলের মৃত্যু হবে সমুদ্রের মধ্যে এটা মেনে নিতে পারতেছিনা। আমাদের দালাল যেভাবে বলেছিল সেভাবে পাঠায় নাই।
অদক্ষ ড্রাইভার দিয়ে আমাদের পরিবারকে নি:স্ব করে দিল। দালাল আজিজুল সহ কয়েকজন মিলে আমার ছেলেকে হত্যা করে আমি এর বিচার চাই। দালালকে অনেক অনুরোধ করলাম ছেলে যেন ভালো মতে পৌঁছে দিতে, কিন্তু সেটা আর হলো না। এখন একটাই চাওয়া শেষবারের মতো ছেলের নিথর দেহটা দেখতে চাই। আমরা এখন কী নিয়ে বাঁচবো? দালালদের শাস্তি চাই।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, দালাল আজিজুল এই উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের দীর্ঘ দিন ধরে পরিবার নিয়ে লিবিয়া থাকে ইদানিং কয়েকজন মানুষকে গ্রীসে পাঠিয়েছিল। যদিও তার কোন লোক নাই তারপরও গোপন লোকদের মাধ্যমে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ম্যানেজ করে, সাগর পথে নিয়ে যায়, বহু দিন ধরে এই পথে দূর্ঘটনা হওয়া পর এই পথকে বেচে নিয়েছেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা।
অভিবাসন প্রত্যাশীদের বাড়ী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদে এক প্রশ্নের জবাবে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ বলেন, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমি আমাদের চেয়ারম্যান সাবদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়েছি। আজকে আমরা উপজেলা প্রশাসন অভিবাসন প্রত্যাশী বাড়ীতে গিয়েছি।
তাদের কথা গুলো শুনেছি। কোন দিন গিয়েছি কিভাবে গিয়েছিল। আমরা এখানে কয়েকজন দালালের নাম পেয়েছি। তাদের ঠিকানা কালেকশন করেছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে রিপোর্ট দিব পাশাপাশি এই দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জগন্নাথপুর থানাকে অনুরোধ করছি।
উল্লেখ্য যে, উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের মাস্টার হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে আলী আহমদ (২৭), একই ইউনিয়নের তিয়ারগাঁও গ্রামের আখলু মিয়ার ছেলে শায়েখ আহমদ (২২), চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাঈম আহমদ (২৫) ও চিলাউড়া (মাঝপাড়া) গ্রামের ইজাজুল হক মনির ( ২৭) খাবার ও পানি অভাবে মৃত্যু বরণ করে।