সিলেটের হরিপুর-ফতেহপুর রাস্তার বেহাল দশা, স্বচক্ষে দেখলে চোখ চমকে যায় এটা রাস্তা নাকি অন্যকিছু। সড়কের উপর দিয়ে চললে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। সড়কে পাকা কার্পেটিং উঠে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কটির উপর দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যে কারণে জনসাধারণের পোয়াতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
এই সড়কটি দ্রুত পুনঃনির্মাণ বা মেরামত করা না হলে জনসাধারণ অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি। হরিপুর টু এয়ারপোর্ট রোডের সাথে এই সড়কের সর্ম্পক রয়েছে।
এই সড়কে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, পর্যটনকেন্দ্র রাতারগুল সোমাম্প ফরেস্ট, এবং পাথরের খনি ভোলাগঞ্জ ও সাদাপাথরসহ অন্যান্য গরুর হাট ও বন্দরের যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ী কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে এই সড়কের বেশ কয়েকটি এলাকা। এগুলো থেকে প্রতি বছর সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। বেশ কয়েকটি সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বীমাসহ অনেক অফিসও রয়েছে। এই সড়কের উপর দিয়ে প্রতিদিনই বহু মানুষ যানবাহন নিয়ে চলাচল করে। নানা ধরনের যানবাহন ও পায়ে হেঁটে যাতায়াত করে থাকে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, অফিসগামীসহ হাজারো মানুষ।
প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায়। এই সড়কে কোন কাজ না করায় ৪ কিলোমিটার সড়কটির বেহাল অবস্থা রয়েছে। সড়কটির পাকা কার্পেটিং উঠে গিয়ে অসংখ্যস্থানে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় দেখে মনে হবে এটি কোন সড়ক নয়, মাছ চাষ করা ডোবা অথবা পতিত পড়া সড়ক।
এ কারণে প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। আবার সড়কে সৃষ্টি হওয়া গর্তে ময়লা পানি জমে থাকায় যানবাহনের চাকায় পানি ছিটকে মানুষের শরীরে লেগে পরিহিত জামা নষ্ট হওয়ায় ঝগড়া বিবাদও সৃষ্টি হচ্ছে, আরও নানান সমস্যা দেখা দেয় প্রতিনিয়ত। এতে জনসাধারণের পোয়াতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
তাই দ্রুত সড়কটি নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহল।
ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সরকারী কর্মকর্তাসহ সর্বসাধারণ চরম দুর্ভোগে যাতায়াত বা চলাচল করছে। দ্রুত সংস্কারের দাবীর মিছিল উঠে আসছে সর্বমহল থেকে।