পবিত্র কুরআনুল কারীম এমন এক মহাগ্রন্থ যে বক্ষ তা ধারণ করেছে, সেই ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা মর্যাদাপূর্ণ করে তুলেন। বয়সে যতোই ছোট হোন না কেন কুরআনের হাফেজ হওয়ার কারণে মর্যাদায় আর ভালবাসায় তিনি অনন্য এক স্থানে সমাসীন হয়ে যান।
এভাবেই মুসল্লিদের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে যান ২৬ বছর বয়সী হাফেজ ক্বারী খুবাইব আহমদ।
তিনি এবছর সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার দাড়িপাতন এলাকার দাড়িপাতন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তারাবির নামাজে ইমামতি করছেন।
তিনি ওই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাঘা গ্রামের বাঘা (সাহেবের বাড়ী) এলাকার খলীফায়ে মাদানী হযরত শায়খে বাঘা রহ. এর দৌহিত্র হাফেজ ক্বারী খুবাইব আহমদ ২০০১ সালের ১১ নভেম্বর আলহাজ্ব হাফিজ জামিল আহমদের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
কুরআন মানব জাতির মুক্তির মানুষের পথ নির্দেশিকা। মুমিনের ইমানের চেতনা। মুত্তাকির জান্নাতের ঠিকানা। পথচলার সমাধান। কুরআনের মাস রমজান। এ মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়। তাইতো রমজান সম্মানিত। কুরআন ছোঁয়া লাগবে যে অন্তরে, সে অন্তর হবে উদ্ভাসিত। হবে সুবাসিত সুরভিত। কুরআনের ছোঁয়ায় ইমান হবে শাণিত। হবে তেজদ্বীপ্ত।আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা ইমানদার তারা যখন আল্লাহর নাম নেয়, নরম হয় তাদের অন্তর।
আর যখন তাদের সামনে কুরআন পাঠকরা হয়, তাদের ঈমান সজিব হয়ে উঠে। তারা মাওলা প্রেমে আত্মনিবেদিত হয়।-সুরাআনফাল: ২
রোজায় কুরআনের সুর বাজে মুমিনের ঘরে ঘরে। তারাবির নামাযে পঠিত হয় কুরআন। পহেলা রোযা থেকে একাধারে ২৭ রোযা পর্যন্ত সিলেটের সকল মসজিদে মসজিদে হাফেযে কুরআনদের কণ্ঠে ধরণীত খোদার বানী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়। এসকল হাফেযে কুরআনদের খেদমতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহকে পাওযার আশায় থাকেন। মাহে রমজানে তারাবির নামাজের ইমামতির দায়িত্ব পালন করা হাফেজে কুরআনদের নিয়ে নতুন শতাব্দীর দৈনিক শ্যামল সিলেটের বিশেষ আয়োজন ‘আলোর পরশমণি’। আজ আমরা হাফেজ ক্বারী খুবাইব আহমদের কথা তুলে ধরছি।
তিনি বাঘা গোলাপনগর আরাবিয়া ইসলামিয়া দারুল হাদিস মাদরাসায় হিফজের সবক শুরু করেন। পরে জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া বহরগ্রাম মাদরাসায় হিফজ সম্পন্ন করেন। তখন তিনি আযাদ দ্বীনি এদারা বোর্ডে এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগাহ মাদরাসায় অধ্যয়নরত রয়েছেন।
হাফেজ খুবাইব ২০১৮ সাল থেকে তারাবি পড়ানো শুরু করেন। বহরগ্রাম ছত্রিশ জামে মসজিদ, রানাপিং, উসমানীনগরসহ কয়েকটি মসজিদসহ চলতি বছরে তাঁর তারাবির ইমামতির নবম বছর চলছে।
আল্লাহ তায়ালা শুকরিয়া জ্ঞাপন করে খুবাইব বলেন, আল্লাহ আমার বক্ষে কুরআন ধারনের সৌভাগ্য দিয়েছেন। কুরআনের কারণে সর্বদা মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হই। বিশেষ করে রামাদান মাসে মানুষের ভালোবাসা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
কুরআন মাজিদ মুখস্থ করতে আমাকে শিক্ষা দেয়া আমার বাবা ও উস্তাদবৃ্ন্দ এবং আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়া আমার বাবা, মা, মরহুমা নানি, চাচা, ফুফু, খালা, ভাই-বোন সহ আত্নীয় স্বজন সকলের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও হাজারো দোয়া এবং ভালোবাসা। হাফেজ খুবাইব আজীবন কুরআনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান। এ জন্য তিনি মহান রবের তাওফিকের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।