আজ ,

বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবীর জীবনের শেষ যাত্রা

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ণ
বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবীর জীবনের শেষ যাত্রা

বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবী।

বাউল গানের আসরে কণ্ঠে ছিল ভক্তি, মনে ছিল ঘরে ফেরার আনন্দ। অনুষ্ঠান শেষে প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে বাসে উঠেছিলেন তরুণ বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবী। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ সফর। শুক্রবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল মাত্র ১৯ বছরের এই উদীয়মান শিল্পীর প্রাণ।

বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা এলাকার ছাবাল শাহ মাজারে বাউল গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডীবের গ্রামের কালু মিয়ার মেয়ে পেহেলি ভৈরবী। সারারাত গান পরিবেশন শেষে শুক্রবার ভোরে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

কিন্তু সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান পেহেলি ভৈরবীসহ ৭ জন যাত্রী। পরে হাসপাতালে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে।

যে কণ্ঠ কিছুক্ষণ আগেও বাউল গানে মুগ্ধ করেছিল শ্রোতাদের, সেই কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল সড়কে। পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষায় ছিলেন মেয়ের ফিরে আসার। কিন্তু ঘরে ফিরল না পেহেলি। ফিরে এল তার নিথর দেহ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অল্প বয়সেই বাউল গানের জগতে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছিলেন পেহেলি ভৈরবী। বিভিন্ন মাজার ও লোকসংগীতের আসরে নিয়মিত গান গাইতেন তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে লোকসংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে স্বপ্ন আর সুর বুকে নিয়ে শুরু হয়েছিল তার বাড়ি ফেরার পথ। সেই পথই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল তার জীবনের শেষযাত্রা। পেছনে রেখে গেলেন অগণিত শ্রোতার ভালোবাসা, সহশিল্পীদের স্মৃতি এবং স্বজনদের অপূরণীয় শোক।