কিক অফের পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই তুরস্কের জালে গোল করল প্যারাগুয়ে। ম্যাচের বাকি সময়ে আর লক্ষ্যভেদ করতে পারল না দুই দল। তাই শুরুর ওই গোলই যথেষ্ট হলো প্যারাগুয়ের জন্য। আর আরেকবার হেরে বিদায় নিলো তুরস্ক।
স্যান ফ্র্যান্সিসকো বে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালের ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে একমাত্র গোলটি করেছেন মাতিয়াস গালারজা। যা কিনা চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুততম গোল।
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ে দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে নকআউটে খেলার আশা বেঁচে রইল প্যারাগুয়ের। অন্য দিকে পরপর দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় সব আশা শেষ হয়ে গেল তুরস্কের।
এছাড়া প্যারাগুয়ের জয়ে নিশ্চিত হয়ে গেল, পরপর দুই ম্যাচ জেতা যুক্তরাষ্ট্রই হবে এই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন। তাই শেষ ৩২-র ম্যাচ স্যান ফ্র্যান্সিসকো বে স্টেডিয়ামেই খেলতে পারবে স্বাগতিকরা। অন্য দিকে দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে অস্ট্রেলিয়া।
অথচ ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় একজন কম নিয়ে খেলেছে প্যারাগুয়ে। দশ জনের দলের সঙ্গে বারবার সুযোগ তৈরি করলেও, কোনোভাবে গোলের তালা ভাঙতে পারেননি আর্দা গুলের, হাকান চালহানওগ্লুরা। তাই প্রথম রাউন্ডেই শেষ তাদের বিশ্বকাপ।
তবে দাপুটে ফুটবল খেলে ম্যাচের সব পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকে তুরস্কই। ম্যাচজুড়ে ৭৮ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তুরস্কের দখলে। গোলের জন্য তারা করে মোট ৩১টি শট। এর মধ্যে ৭টি থাকে লক্ষ্য বরাবর। কিন্তু জালে প্রবেশ করেনি একটিও। পোস্টে লেগেও ফিরে আসে তাদের শট।
অন্য দিকে ম্যাচের শুরুতে চমক জাগানিয়া গোলে নিজেদের কাজ সেরে নেয় প্যারাগুয়ে। কিক অফের হুইসেল বাজার পর একদমই কোনো সময় নেয়নি তারা। সম্ভাব্য সুযোগ দেখে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে দেন হুলিও এনসিসো।
প্যারাগুয়ের উচ্ছ্বাস আর তুরস্কের গ্লানি। ছবি: সংগৃহীত
ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাম পায়ের দারুণ শটে জাল কাপিয়ে দেন মাতিয়াস গালারজা। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৬৪ সেকেন্ড।
ফিফা বিশ্বকাপে ২৮ বছরের মধ্যে লাতিন আমেরিকার কোনো দলের এটিই দ্রুততম গোল। ১৯৯৮ সালের আসরে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্যারাগুয়েরই সেলসো আয়ালা মাত্র ৫২ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন।
চলতি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দ্রুততম গোল করার দুই মিনিটের মধ্যে আবার অযাচিত ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন গালারজা। অন্য দিকে গোল হজমের পর শোধ দিতে মরিয়া হয়ে পড়ে তুরস্ক। বারবার প্রতিপক্ষ রক্ষণে হানা দিয়েও লাভ হয়নি তাদের।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে অন্যরকম ইতিহাসের অংশ হয়ে যান প্যারাগুয়ের ফরোয়ার্ড মিগেল আলমিরন। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার মের্তে মুলদুরের উদ্দেশ্যে মুখ ঢেকে কিছু একটা বলায়, ভিএআর দেখে সরাসরি আলমিরনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
মুখ ঢেকে কথা বললে লাল কার্ডের নিয়ম চালুর পর এটিই প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের লাল কার্ড দেখার ঘটনা।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে দশজনের প্যরাগুয়েকে চেপে ধরে তুরস্ক। শুরুতেই প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে শট নেন মেরিহ দেমিরাল। যা ফিরিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার। পরের মিনিটে কেনান ইয়িলদিজ কাঁপান পাশের জাল।
এরপর একের পর এক আক্রমণ করতে থাকেন গিলেন, দেমিরাল, ইয়িলদিজরা। কিন্তু কোনোভাবেই প্যারাগুয়ের রক্ষণ ফাঁকি দিতে পারেননি তারা। একেকটি জোরাল শটে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যান প্যারাগুয়ে গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। যার সৌজন্যে জয় পায় প্যারাগুয়ে।