আজ মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গোয়াইনঘাটে পশুর হাটে অবৈধ গরুর দাপট, দিশেহারা খামারিরা

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ণ
গোয়াইনঘাটে পশুর হাটে অবৈধ গরুর দাপট, দিশেহারা খামারিরা

ফাইল ছবি

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গোয়াইনঘাট উপজেলার হাট-বাজারে জমে উঠেছে গরুর হাট। তবে দেশি গরুর পাশাপাশি ভারতীয় অবৈধ গরুর আধিক্য স্থানীয় খামারিদের মনে গভীর দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। সারা বছর ধরে গরু লালন-পালন করে কোরবানির হাটে বিক্রির আশায় থাকা কৃষকরা আশানুরূপ দাম না পাওয়ার শঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়ছেন।

স্থানীয় খামারি ও কৃষকদের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশের কারণে বাজারে দেশি গরুর চাহিদা কমে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রান্তিক কৃষক ও ছোট খামারিরা। অনেকেই ঋণ নিয়ে গরু পালন করেছেন। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে মূলধন ফেরত পাওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গোয়াইনঘাটের নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন ও একই গ্রামের খামারি পারিজাত এগ্রোর্ফমের মালিক ফয়েজ আহমদ বলেন, অবৈধভাবে প্রবেশ করা ভারতীয় গরুগুলো অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রি হয়। ফরমালিন ও রাসায়নিক খাদ্যে মোটাতাজা হওয়ায় এসব গরু ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফলে দেশি গরুর দাম পড়ে যায়। চোরাকারবারিদের হঠাৎ বাজারে গরু নামানোর কৌশলে দেশি খামারিরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।

সরজমিনে হাদারপার বাজারে গরু বিক্রি করতে আসা কয়েকজন খামারি জানান, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, চিকিৎসা খরচ, পরিবহন ও শ্রম ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গরু পালন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই ভারতীয় গরুর দাপটে দেশি গরুর বাজারে ধস নামার আশঙ্কা করছেন তারা।

একজন খামারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারা বছর কষ্ট করে গরু পালন করি, কিন্তু বাজারে ভারতীয় অবৈধ গরু বেশি থাকায় আমাদের গরুর দাম কমে যায়। এতে আমরা হতাশ হয়ে পড়ছি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি গরুর তুলনায় ভারতীয় গরুর দাম কম হওয়ায় অনেক ক্রেতা সেদিকেই ঝুঁকছেন। ফলে দেশি খামারিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই গরু পালন ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, বাড়ছে বেকারত্ব। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

খামারিরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশীয় খামারি ও গৃহস্থ কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং অবৈধ গরু প্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে অনেক খামারি এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে না, বেকারত্ব বেড়ে গিয়ে সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশিষ্টজনেরা।

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১