দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় অনেক অভিনেত্রীই অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনায়ও ছিলেন মেধাবী। তাদের মধ্যে কয়েকজনের রয়েছে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি। কেউ এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন, আবার কেউ দন্ত চিকিৎসায় বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। চিকিৎসক হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারা।
এই তালিকায় রয়েছেন সাই পল্লবী, শ্রীলীলা, অদিতি শঙ্করসহ দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার পরিচিত কয়েকজন অভিনেত্রী।

অদিতি শংকর
অদিতি শঙ্কর
তামিল সিনেমার জনপ্রিয় পরিচালক শঙ্করের মেয়ে অদিতি শঙ্কর। অভিনয়ে আসার আগে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেছেন তিনি। রামচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন অদিতি। ‘ভিরুমান’ ও ‘মাভীরান’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।
শ্রীলীলা
শ্রীলীলা
শ্রীলীলার মা একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। মায়ের অনুপ্রেরণায় চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শুরু করেন শ্রীলীলা। মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাটিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি। অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান এই অভিনেত্রী। ২০২১ সালে এমবিবিএসের পড়াশোনা শেষ করার পর ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
সাই পল্লবী
সাই পল্লবী
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবীও চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেছেন। জর্জিয়ার তিবিলিসি স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রের পড়াশোনা সম্পন্ন করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিকিৎসাবিদ্যায়ও তার রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতা। বর্তমানে নিতেশ তিওয়ারির বহুল প্রতীক্ষিত দুই পর্বের সিনেমা ‘রামায়ণ’-এ দেবী সীতার চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। এতে রামের ভূমিকায় রয়েছেন রণবীর কাপুর।

শিবানী রাজশেখর
শিবানী রাজশেখর
তেলুগু সিনেমার অভিনেত্রী শিবানী রাজশেখরও চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেছেন। হায়দরাবাদের অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতি, ফুলের ওষুধ ও আয়ুর্বেদের প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে। বাবার পথ অনুসরণ করে অভিনয়ে এলেও চিকিৎসাশাস্ত্রের পড়াশোনা চালিয়ে যান শিবানী। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি।
কামাক্ষী ভাস্করলা
কামাক্ষী ভাস্করলা
তেলুগু অভিনেত্রী কামাক্ষী ভাস্করলাও পেশাগতভাবে চিকিৎসক। চীনে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর অ্যাপোলো হাসপাতালে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া তেলেঙ্গানা খেতাবও অর্জন করেন কামাক্ষী।

রূপা কোডুভায়ু
ররূপা কোডুভায়ুর
রূপা কোডুভায়ুর এমবিবিএস ডিগ্রিধারী একজন চিকিৎসক। কাতুরি মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় চিকিৎসক হিসেবে সম্মুখসারির কর্মী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন রূপা। সেই সময় অভিনয়ও চালিয়ে গেছেন তিনি। কুচিপুড়ি ও ভরতনাট্যমেও প্রশিক্ষণ রয়েছে তার। ২০২০ সালে ‘উমা মহেশ্বরা উগ্র রূপস্য’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় রূপার। সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হন তিনি।

মীনাক্ষী
মীনাক্ষী চৌধুরী
তেলুগু ও তামিল সিনেমার পরিচিত মুখ মীনাক্ষী চৌধুরী চিকিৎসক হিসেবে দন্ত চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেছেন। পাঞ্জাবের ন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল থেকে বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ২০১৮ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় হরিয়ানার প্রতিনিধিত্ব করেন মীনাক্ষী। একই বছর ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল খেতাব জেতেন এবং মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে প্রথম রানারআপ হন।

কোমালি প্রসাদ
কোমালি প্রসাদ
তেলুগু সিনেমার অভিনেত্রী কোমালি প্রসাদও পেশায় একজন দন্ত চিকিৎসক। প্রাভারা ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস থেকে পড়াশোনা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে মুম্বাইয়ে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে কাজও করেছেন। এরপর চিকিৎসা পেশা ছেড়ে অভিনয়জগতে পা রাখেন কোমালি। বর্তমানে তেলুগু চলচ্চিত্রের পরিচিত অভিনেত্রীদের একজন তিনি।
চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পরও অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া এই অভিনেত্রীদের গল্প তাই কিছুটা ব্যতিক্রমী। পর্দায় সাফল্যের পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবনের অর্জনও ভক্তদের কাছে আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র-সিয়াসাত ডেইলি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, জিনিউজ