আজ ,

বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে যা বললেন ইন্ডিয়ান হাই কমিশনার

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে যা বললেন ইন্ডিয়ান হাই কমিশনার

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক ইস্যুগুলো বজায় থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, “আসুন আমরা ব্যবসায়িক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাই, রাজনীতি তার নিজের পথে চলবে।”

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সাধারণ মানুষের চাওয়া অত্যন্ত সীমিত ও মৌলিক। তারা মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, ভালো রাস্তাঘাট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং কর্মসংস্থান চায়। আর এই চাহিদাগুলো পূরণ করার একমাত্র কার্যকর মাধ্যম হলো শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক। তিনি মন্তব্য করেন, “গণতন্ত্রে রাজনৈতিক ইস্যু থাকবেই, কিন্তু উন্নয়ন ছাড়া সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়।”

বাংলাদেশ ও ভারতের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষা পূরণে সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “উভয় দেশের তরুণরা অত্যন্ত মেধাবী। তাদের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। যেকোনো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই প্রজন্মের ভবিষ্যৎ আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারডিপেন্ডেন্সি’ বা পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই দুই দেশের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে। উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতকে একে অপরের ওপর নির্ভর করতে হবে। এই নির্ভরশীলতা একটি পরিবারের মতো সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করবে।

বাণিজ্যিক সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি পোশাক খাতের কথা উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। তিনি দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যা বিশ্ববাজারে উভয় দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতার কথা উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানে কেউ বড় বা ছোট নয়, আমরা সবাই সমান। এই সমতার নীতির ওপর ভিত্তি করেই আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।”

সাক্ষাৎকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ এবং সীমান্ত হাটের সম্প্রসারণসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাইকমিশনারের এই বক্তব্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্যিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।