আজ ,

স্ত্রীকে হ’ত্যা করে বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখেন স্বামী

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ৬, ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ণ
স্ত্রীকে হ’ত্যা করে বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখেন স্বামী

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যা করে বাড়ির উঠানে ৮ ফুট মাটির নিচে লাশ পুঁতে রাখেন স্বামী আলমগীর। নিখোঁজের ১৮ দিন পর বাড়ির উঠান থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্বামীর স্বীকারোক্তিতে সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় জাহেদা বেগমের (৩৮) লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদার উপস্থিত ছিলেন।

নিহত জাহেদা একই ইউনিয়নের সোনাটিকী গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। জাহেদা ও আলমগীর দম্পতির ছয় বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন থেকে জাহেদা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার খোঁজ জানতে চাইলে স্বামী আলমগীর দাবি করেন, তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পাওয়ায় নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির তদন্তে পুলিশ আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

তিনি জানান, হত্যার পর লাশ বাড়ির উঠানের সামনে প্রায় ৮ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে খননকাজ চালানো হয়। পরে মাটির নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর আলী (৪০), জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বীভৎস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।