টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পাশাপাশি বেড়েছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি। এ পরিস্থিতিতে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে অতিবৃষ্টিতে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের রেইচা এলাকায় হোটেল গ্রীনপিকের কাছে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি খুঁটি হেলে পড়লে বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবায়ও বিঘ্ন ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের খুঁটিটি হেলে পড়ে। দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর থেকে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে।
বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রকৌশলী ও কারিগরি দল ঘটনাস্থলে মেরামত কাজ করছে। কাজ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।
এদিকে একই দিন জেলা প্রশাসনের এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা এবং সড়ক যোগাযোগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সময়ে ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের চলাচল থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে বান্দরবানে অবস্থানরত অনেক পর্যটককে ভ্রমণসূচি পরিবর্তন করতে হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে কেউ যেন অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণে না যান, সে আহ্বানও জানিয়েছে প্রশাসন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলা। কয়েকটি সড়কে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সড়ক থেকে মাটি সরিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
অন্যদিকে, উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে লামা মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।