দরজায় কড়া নাড়ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-ফুটবল বিশ্বকাপ। অপেক্ষা মাত্র এক দিনের। ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ। মাঠের লড়াই এই তিন দেশে হলেও ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নামও। গোটা দেশ যেন ডুবে আছে ফুটবলপ্রেমে। তবে এই প্রেম আবার বিভক্ত নানা রঙে। কারও ভালোবাসার রঙ আকাশি-নীল, কারও হলুদ-সবুজ। কেউ সমর্থন করেন আর্জেন্টিনাকে, কেউবা ব্রাজিলকে। আবার অনেকের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ইংল্যা-, ফ্রান্স, স্পেন কিংবা পর্তুগাল। তবে সমর্থকদের সংখ্যার বিচারে শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। তাই প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে জার্সি গায়ে খেলা দেখার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ফুটবলপ্রেমীরা। আর সে কারণেই এখন জার্সির দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়।
সিলেট নগরী ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাত ও শোরুমে সারি সারি করে সাজানো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল সহ বিভিন্ন দেশের জার্সি। ফুটপাতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে জার্সি পাওয়া গেলেও দোকান ও শোরুমে ৫০০ টাকার নিচে জার্সি পাওয়া যাচ্ছে না। উন্নতমানের জার্সির দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন দোকানিরা।
সিলেট নগরীর হাসান মার্কেটের কয়েকটি দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন দেশ ও ক্লাবের জার্সি। সামনে ফুটবল বিশ্বকাপ, তাই প্রতিটি দোকানেই ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে ক্রেতারা কিনছেন জার্সি, পতাকা ও নানা ধরনের সমর্থক সামগ্রী। কেউ বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছেন জার্সি কিনতে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলা উপভোগের প্রস্তুতি হিসেবে দল বেঁধে কিনছেন একই দলের জার্সি। আবার অনেকে সন্তানদের আবদার মেটাতে ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। শুধু হাসান মার্কেটই নয়, নগরীর জার্সির দোকানগুলোতেই এ দৃশ্য দেখা গেছে। সব মিলিয়ে পুরো নগরজুড়েই এখন বইছে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা, যেন চারপাশে শুধুই ফুটবলের উৎসব।
ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, চার বছর পরপর আসা বিশ্বকাপের এই সময়টির জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। প্রিয় দলের রঙের জার্সি গায়ে দিয়ে পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সমর্থকদের মধ্যে চলে তর্ক-বিতর্ক, নিজেদের দলকে এগিয়ে রাখার নানান যুক্তি আর প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের সঙ্গে মজার খুনসুটি। এসব মিলিয়েই ফুটবল বিশ্বকাপ হয়ে ওঠে এক অনন্য আবেগের উৎসব। তাদের মতে, প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো সেই দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলা উপভোগ করা এবং দলের সাফল্যে উল্লাসে মেতে ওঠা। তাই বিশ্বকাপ এলেই জার্সি আর শুধু পোশাক থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে সমর্থকদের আবেগ, পরিচয় ও ভালোবাসার প্রতীক।
দোকানিরা জানিয়েছেন, বিক্রির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি। তবে তুলনামূলকভাবে আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা ও বিক্রি বেশি। অন্যদিকে ব্রাজিলের জার্সির সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তারা আরও জানান, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি ইংল্যা, পর্তুগাল, ফ্রান্স, স্পেনসহ আরও কয়েকটি জনপ্রিয় দলের জার্সিও বিক্রি হচ্ছে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে জার্সির বিক্রিও।
শুধু দোকানে দোকানেই নয়, হেঁটে হেঁটে পতাকা বিক্রি হচ্ছে নগরজুড়ে। তবে অন্যবারের তুলনায় এবার পতাকা বিক্রি কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
এদিকে জার্সি বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনলাইন ব্যবসায়ীরাও। অনলাইনে সব ধরণের জার্সিই পাওয়া যাচ্ছে। তবে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে ফ্যান এডিশন ও প্লেয়ার এডিশন জার্সি। পছন্দের দলের জার্সি কিনে নিজের নাম লেখাতে ব্যস্ত সময় পার করছে দর্শকরা।
নগরীর কুমারপাড়ার বাসিন্দা ব্রাজিল সমর্থক আইয়ুব আলী জানিয়েছেন, তাঁরা কয়েকজন বন্ধু মিলে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে পছন্দের দলের জার্সি কিনেছেন। জার্সি গায়ে দিয়েই খেলা দেখবেন।
ওই একটা শব্দ ফুটবল, যার জন্যে পাগলপারা কোটি কোটি মানুষ। আর ফুটবলের বিশ্বমঞ্চের আসরকে ঘিরে বাংলার বুকে জার্সি বেচাকেনা এমন ধুম বলে দেয়, এই দেশের মানুষ কতটা ফুটবলপ্রেমী। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলটা না থাকলেও এখানকার মানুষ ইউরোপিয়ান কিংবা আমেরিকান ফুটবলের ছন্দে মেতে ওঠেন। বিশ্বকাপ এলেই যেন বাংলাদেশের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে নগরীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে জার্সি ও পতাকার ‘রঙিন উৎসব’।