সিলেট মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানাধীন সাহেবের বাজারে আদালতের আদেশ অমান্য করে পূর্বশত্রুতা ও জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ৯ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাহেবের বাজারে অবস্থিত ঘোড়ামার বাজরতল এলাকায় মার্কেটে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো.আকরাম উদ্দিন (৫৫) গত ১১ আগস্ট এয়ারপোর্ট থানায় ফয়জুর রহমান (৫২) ও ছায়ফুল মিয়াসহ নামোল্লেখিত ১২ জন এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা (নং-০৭) দায়ের করেছেন।
এজাহারসূত্রে জানা যায়, ফয়জুর রহমান (৫২) ও ছায়ফুল মিয়া গংদের সাথে বাদীর পূর্ব থেকেই জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বিগত সময়ে বাদীর ছোট ভাই নিজাম উদ্দিনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা (নং- ১৩/৯৯) বিচারাধীন রয়েছে।
এজাহারে মো.আকরাম উদ্দিন উল্লেখ করে বলেন, বিবাদীগণ ইতিপূর্বেও অবৈধভাবে তার মার্কেট দখল করলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ক্যাম্পের সাহায্যে তা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে দায়ের করা ৫২/১৯ মামলার রায় আদলত ঘোষণা করেন মো.আকরাম উদ্দিনের পক্ষে। গত ১৫ জুলাই আদালতের চূড়ান্ত রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ২৪ শতক ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জমিটি নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন।
এরপর সীমানা নির্ধারণের জন্য লাল পতাকা টাঙিয়ে আকরাম উদ্দিনের নিকট ভূমির দখল ও নিয়ন্ত্রণ বুঝিয়ে দেন। এরপর থেকে বিবাদীরা আবারো জায়গা দখল করে নেওয়া ও তাকে হত্যার হুমকি প্রদান করে। এই ঘটনায় গত ২ আগস্ট সিলেট এযারপোর্ট থানায় জিডি (নং-৯৮) করেন।
এতে বিবাদীরা আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বাদীর ওপর। গত ৯ আগস্ট দুপুরে আদালতের আদেশ অমান্য করে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় সেখানে আকরাম উদ্দিনকে পেয়ে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে বুকের ওপর দিয়ে চেপে ধরে এবং কোনো চিৎকার করলে ভাইয়ের মতো তাকেও হত্যার হুমকি দেয়। এছাড়া বাদীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও শ শ্লীলতাহানি করা হয়। বিবাদীদের কয়েকজন ঘরের ভেতর প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং নগদ টাকাসহ গৃহস্থালি ও নির্মাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
এজাহারে আরও উল্লেখ্য করা হয়, বিবাদীগণ আদালতের নির্দেশে নির্মিত সীমানা প্রাচীর, বাঁশের খুঁটি ও সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে এবং মার্কেটের টাইলস, দরজা ও চাল ভাঙচুর করে আনুমানিক ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায় ও ১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
এই ঘটনার পেয়ে খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।