লিবিয়া থেকে অবৈধপথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছানোর চেষ্টায় নৌকায় গেইমে উঠেছিলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার লোহানী মিয়া ও সানোয়ার রহমান নামের দুই যুবক।
যাত্রাপথে তাদের নৌকা বিপর্যয়ের কবলে পড়ে, আর এরপর থেকেই শুরু হয় এক পরিবারের দুশ্চিন্তার প্রহর গোনা। তবে লোহানী মিয়ার খোঁজ মিললেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন সানোয়ার রহমান (২৬)।
যেভাবে ভূমধ্যসাগরে বিপর্যয়ের মুখোমুখি:
চলতি মাস আগস্টের ৩ তারিখ দিরাই পৌরসভার ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক উল্লার ছেলে সানোয়ার লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেদিনের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তখন থেকেই ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে তার।
একই নৌকার আরেক যাত্রী, দিরাইয়ের ধল চান্দপুর গ্রামের লোহানী মিয়া অবশ্য জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন মিসরের একটি হাসপাতালে।
১১ দিন সাগরে ভাসছিলেন ৩৮ বাংলাদেশি:
মোট ৪২ জন আরোহী নিয়ে ছোট্ট নৌকাটি রওনা দিয়েছিল, যাদের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছাতেই নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর টানা ১১ দিন খোলা সাগরে ভেসে থাকতে হয় অভিবাসীপ্রত্যাশীদের। খাবার আর পানি ফুরিয়ে যাওয়ায় একে একে প্রাণ হারান ১১ জন।
যা বলছে পরিবার:
পরিবারের ভাষ্যমতে, ইউরোপে ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে দালালরা সানোয়ারকে প্রথমে শ্রীলঙ্কা, তারপর দুবাই ও মিসর ঘুরিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখান থেকেই শুরু হয় সেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতির দিকে গড়ায়।
সানোয়ারের পিতা রফিক উল্লাহ বলেন, আমার ছেলে কোথায়, কেমন আছে? কোনো কিছুই আমরা জানিনা। ছেলেকে সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন করছি।
এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বলেন, ঘটনাটি জানার পর থেকেই তারা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সানোয়ারকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আকুল প্রত্যাশা নিয়ে তার পরিবার এখন তাকিয়ে আছে সরকার, প্রবাসী কমিউনিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে জরুরি সহায়তার আশায় বুক বেঁধে আছেন।