আজ বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে ফাটল

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ১৬, ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ণ
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে ফাটল

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বাজি ধরেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে পাশে নিয়ে তার যৌথ যুদ্ধ ইরানের ধর্মীয় শাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করবে আর দেশে আসন্ন নির্বাচনের আগে তাকে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের স্থাপতি হিসেবে শক্তিশালী করবে যা পশ্চিম এশিয়াকে নতুন করে গড়ে তুলবে।

এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চাওয়ায় ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকা নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাতের পথে এগোচ্ছেন। এই যুদ্ধে তাদের কারও লক্ষ্যই পূর্ণ হয়নি বরং ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযানের মধ্যে আটকা পড়ে গেছে।

রয়টার্স লিখেছে, আপাতত ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র অসন্তুষ্ট হতে পারেন, এমন শঙ্কায় জনসমক্ষে সতর্ক থাকছেন। কারণ তাদের মিত্র সমালোচকদের প্রতি রুক্ষ আচরণের জন্য পরিচিত।

কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলাপচারিতায় হতাশাটা স্পষ্ট। ইসরায়েলের এক ঊধ্র্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “প্রাথমিক ওই চুক্তি ইসরায়েলের জন্য ভয়ানক।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ নিয়ে খোলামেলা মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, “আর ইসরায়েলি নেতৃবৃন্দের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি এটিকে ভিন্নভাবে দেখেনে, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে চিফ অব স্টাফ, সবাই।”

ওয়াশিংটন বলেছে, বর্ধিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় তারা পূর্ণাঙ্গ শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা করবে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগগুলো তুলে ধরা হবে, বিশেষভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে।

কিন্তু ইসরায়েলের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা মনে করছেন চুক্তি অনুযায়ী আলোচনার সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে আর ইসরায়েলের উদ্বেগগুলো অমীমাংমিত রেখেই তারা যেন সামরিক কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানের একটি প্রধান দাবি। কিন্তু ইসরায়েল লেবাননের ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযানের রাশ টানতে রাজি হচ্ছে না। এ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বারবার মতবিরোধ হচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুতে এক উত্তপ্ত ফোন কলে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলে তিরস্কার করেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির চেষ্টা করছে তখন লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আঘাত না হানার নির্দেশ দেন তাকে।

নেতানিয়াহু সেদিন হামলা বন্ধ রাখতে বলেন, কিন্তু এক সপ্তাহ পরই বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান আর ট্রাম্প উভয়পক্ষকে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে রোববার ইসরায়েল ফের লেবাননের রাজধানীতে হামলা চালায়। এর আগে লেবানন থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে রকেট হামলা চালানো হয়েছিল। ট্রাম্প এগুলোকে ‘ছোটখাটো ও অর্থহীন’ ঘটনা বলে বর্ণনা করেন।

সোমবার রাতে জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, দৃঢ় ও জ্ঞানী নেতৃত্বের মাধ্যমে ইসরায়েল ‘স্থির ও শক্তিশালী’ হিসেবে অবির্ভূত হয়েছে। এ সময় তিনি স্বীকার করেন ট্রাম্প ও তার মধ্যে মাঝমাঝে দৃষ্টিভঙ্গীর পার্থক্য হয়।

নেতানিয়াহু বলেন, “তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আর আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। অনেক সময় আমাদের মতের মিল হয় আবার এমন সময়ও আসে যখন অমিল হয়। আমার দায়িত্ব হল, ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ দেখা।”

আসছে শরতে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আর তাতে নেতানিয়াহু হারবেন বলে জরিপগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। নেতানিয়াহুকে এমন এক ইসরায়েলি জনগণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে যারা ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অঙ্গীকার নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠছে; অন্তত জনমত জরিপগুলোতে এমনটিই দেখা যাচ্ছে। ফলে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে আরও অগ্রাহ্য করতে বাধ্য হতে পারেন।

ওবামা আমলে ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বপালন করা আর বর্তমানে থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের সঙ্গে থাকা ড্যান শ্যাপিরো বলেন, “এটি স্বার্থের ভিন্নতার বেশ স্পষ্ট একটি মুহূর্ত। ট্রাম্পের সঙ্গে বিবাদে না জড়াতে নেতানিয়াহু (চুক্তিটির) প্রকাশ্য বিরোধিতা না করার চেষ্টা করবেন, কিন্তু ইঙ্গিত দিবেন ইসরায়েল এটি মানতে বাধ্য নয় আর ইসরায়েল তার অধিকার সংরক্ষণ করে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত এই সমঝোতা স্মারকটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, এই চুক্তিতে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের আহ্বান জানানো হবে।

নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের বাহিনী রেখে দেবে আর হিজবুল্লাহর হামলার বিরুদ্ধে ‘পদক্ষেপ গ্রহণের স্বাধীনতা’ বজায় রাখবে। ইরান দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার চাইলেও তারা তা মানবে না।

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০