বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীকে গুম ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানকে বিমান বাহিনীর যথাযথ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের খান লেখেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীকে বলপূর্বক অপহরণ (গুম) ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানকে বিমান বাহিনীর যথাযথ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও লেখেন, “গত ২১ জুন ২০২৬ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম ও খুনের ঘটনায় এই বিমান বাহিনীর কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।”
সবশেষে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, “উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমান (তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার) সে সময় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য, উইং কমান্ডার সাইফুর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের মেয়ের জামাতা। বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষের বরাতে তাঁর আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, দেশের প্রচলিত আইনে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে রাত দেড়টায় রাজধানী ঢাকার বনানী ২ নম্বর সড়কের সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সামনে থেকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এবং দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীকে তার গাড়িচালকসহ ঢাকার বনানী থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামে। পরে তাকে আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশে হত্যা করা হয়।
এর আগে, ১৯৯৯ সালে ভারত সরকার মণিপুর রাজ্যের সিপুইকাউন (টিপাইমুখ) এলাকায় বারাক নদীর উপর টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করে। এরপর ২০০৯ সালে ভারতের প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধের প্রথম আঘাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ওপর পড়বে বলেই আশঙ্কা করে, সেখানকার জনগণ উদ্বেগ প্রকাশ করে সিলেটে স্থানীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে উঠে। ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংগঠন সেখানে গিয়ে লংমার্চের মতো বড়ধরনের কর্মসূচি পালন করে। এছাড়াও সিলেট বিভাগ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ তিন দিন ধরে লংমার্চ করে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীও সেখানে লংমার্চ, নৌমার্চ ছাড়াও অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করেছে। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে সিলেটে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং এর কট্টর সমালোচক ছিলেন ইলিয়াস আলী।