বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় নগরীর উপশহর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায়ও অংশ নেন পরিবহণ শ্রমিক রিপন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিলেট জেলা পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম, এজাহারভূক্ত দ্বিতীয় আসামি আলী আকবর রাজন।
হত্যা মামলা ছাড়াও ময়নুল ইসলাম বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর দায়ের করা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তারপরও তিনি সভায় দাওয়াতি। আর শাহপরাণ থানায় দায়েরকৃত ছাত্রদল কর্মী হত্যা মামলার আসামি রুনু মিয়া মঈনকে দেখা যায় ওই সভায়।
এছাড়া বিআরটিএর চিহ্নিত দালালিতে অভিযুক্ত পরিবহণ নেতাও সভায় উপস্থিত হয়ে পুলিশ কমিশনারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে দেখা যায়। হত্যা মামলার আসামিরা এর আগে ৫ জুলাই সদ্য সাবেক পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। যা পুলিশের ভাবমুর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। হত্যা মামলার আসামিরা কিভাবে পুলিশ কমিশনারের সভায় আমন্ত্রিত হয়ে অংশ নেন- তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, হত্যা মামলার আসামিদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কিংবা পুলিশ কমিশনারের যেকোনো সভায় দাওয়াত দেওয়া উচিত নয়, যতদিন পর্যন্ত তারা আদালত থেকে খালাস না পাবেন। একটি মামলায় অব্যহতি দেওয়া হলেও যতক্ষণ না আদালত তা গ্রহণ করেছেন, ততক্ষণ তারা এ ধরণের সভায় দাওয়াত পেতে পারেন না।
অপর এক আইনজীজী বলেন, ১৭৩-এ ধারায় অপপ্রয়োগ করছে পুলিশ। প্রভাবশালীদের এই ধারায় ছেড়ে দিচ্ছে। অথচ বিগত দিনে যাদের ষড়যন্ত্রমুলকভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে প্রশাসন নীরব।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল ইসলাম বলেন, দাওয়াতের বিষয়টি আমি জানিনা। এটি ট্রাফিক বিভাগ থেকে দেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, পরিবহণ মালিক শ্রমিকদের দাওয়াত করা হয়েছে এডিশনাল কমিশনার (এডমিন) থেকে। আমি কিছুই জানিনা। অবশ্য হত্যা মামলায় শ্রমিক নেতা ময়নুলসহ কয়েকজনকে অব্যহতি দেওয়ার হয়েছে জানান তিনি।
তবে আদালতে অব্যহতির সুপারিশ আবেদন গ্রহণের আগে তারা দাওয়াত পেতে পারেন কিনা, এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম ।
সভার শুরুতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা পরিবহন খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। এ সময় পুলিশ কমিশনার তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন।
সভায় পুলিশ কমিশনার মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু ও নিরাপদ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি পারস্পরিক সমন্বয়, সহযোগিতার মাধ্যমে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও জনবান্ধব করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভা শেষে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুলিশ কমিশনারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন) মুঃ মাসুদ রানা, পিপিএম-সেবা; উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ, অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিবি) মো. আকতার হোসেন; উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক, অতিরিক্ত দায়িত্বে সদর ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায়; উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর, অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিসি-প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম; উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আফজাল হোসেনসহ এসএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।




