আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মাঠে গড়াবে ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপ। আসতেকা স্টেডিয়ামে দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ইতোমধ্যে ফুটবলপ্রেমীরা উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। সিলেটে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তরাও প্রিয়দলের জার্সি পরে প্রথমদিনের খেলা উপভোগ করবেন।
ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে শুরু করে নগরী ছাপিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলও সেজেছে প্রিয় দলের পতাকায়। চায়ের আড্ডার আলোচনায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এখন ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে বিশ্বকাপ।
প্রিয় দলের টিম, পতাকা আর জার্সির মাধ্যমে নিজের ছবি দিয়ে এআই’র সম্পাদিত ছবি তৈরি করে পোস্ট করার মাধ্যমে নিজের সমর্থিত দলের জানান দিচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
জানা যায়, দীর্ঘ ১৬ বছর পর স্বাগতিক মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হচ্ছে ২৩তম বিশ্বকাপের অভিষেকে। ম্যাচ শুরুর আগে বিশ্বকাপের শিরোনাম সংগীত ‘দাই, দাই’ গেয়ে শোনাবেন পপ তারকা শাকিরা ও বার্না বয়।
আজ বিশ্বকাপের মহরত শুরু হলেও সিলেটে অনেক আগে থেকেই সিলেটের ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়ে যায়। সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পয়েন্ট, জিন্দাবাজারসহ বিভিন্ন খেলাধুলা সামগ্রী বিক্রেতার বিপনীগুলোতে পতাকা, জার্সি বিক্রির দিক থেকে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা এ দু’টিই ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুটপাত থেকে শুরু করে শপিংমল, সর্বত্রই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও জার্মানির পতাকা বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা ১০০ থেকে ৩০০ টাকার ফুটপাতের সাধারণ জার্সি থেকে শুরু করে ৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকার শোরুমের জার্সি কিনছেন।
গ্রাফিতি ও দেয়ালচিত্র:
নগরীর মদিনা মার্কেট, উপশহর, শাহপরাণসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজ নিজ প্রিয় দলের সমর্থনে বড় বড় গ্রাফিতি ও দেয়ালচিত্র আঁকা হচ্ছে।মাঠের ফুটবল ও স্থানীয় উদ্যোগশুধু ঘরে বসে খেলা দেখাই নয়, সিলেট নগরীর মাঠপর্যায়েও ফুটবলের জোয়ার রয়েছে।
২য় রাউন্ড থেকে বড় পর্দায় খেলা:
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জনসাধারণের মধ্যে ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে বড় পর্দায় (এলইডি মনিটর) খেলা দেখার ব্যবস্থা করবে সিলেট সিটি করপোরেশন। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিসিবির পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নগরবাসীর জন্য বিশেষ বড় পর্দার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শাবিপ্রবিতে বড় পর্দা:
শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে ‘ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬’ উপভোগের লক্ষ্যে ৬টি আবাসিক হলে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর উদ্যােগ নিচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রশাসন।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যেন শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে একসঙ্গে উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য ছেলেদের তিনটি ও মেয়েদের তিনটি আবাসিক হলে আধুনিক প্রজেক্টর ও বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ:
এ যেন ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি। সেবার জোহানেসবার্গের সকার সিটিতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা ড্র করেছিল ১-১ গোলে। ১৬ বছর পর আবার মুখোমুখি দুই দল।
ঘরের মাঠে বিপুল দর্শক সমর্থনের সুবিধা পাবে ফিফা র্যাংকিংয়ের ১৫তম দল মেক্সিকো। তাদের রক্ষণভাগ খুবই শক্তিশালী, গত আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৬টিতেই গোল খায়নি। এর সঙ্গে দুর্দান্ত আক্রমণভাগ এবং নিজেদের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের পরিষ্কার ফেবারিট করে তুলেছে।
র্যাংকিংয়ে ৬০তম স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা। যদিও আফ্রিকা অঞ্চলের সি-গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েই এসেছে বাফানা বাফানারা। প্রতিআক্রমণ নির্ভর স্টাইল এবং শেষ ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৯টিতেই গোল করার রেকর্ড নিয়ে মেক্সিকোর রক্ষণকে তারা পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
এই নিয়ে সর্বোচ্চ তিনবার বিশ্বকাপ আয়োজনের রেকর্ড গড়ছে মেক্সিকো। তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য যদিও কোয়ার্টার ফাইনাল, সেটিও ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে আয়োজনে। এবার সেই সাফল্য ছাপিয়ে যাওয়ারই স্বপ্ন দেখে এল–ত্রি’রা।
ওদিকে, ১৬ বছর পর তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্যই আন্ডারডগ। আগের দুবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়া বাফানা বাফানারা এবার কত দূর যাবে, তা বলবে সময়।