আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের লক্ষে মৌলভীবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে এ পর্যন্ত ২৬ জন মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি)র পক্ষ থেকে তিনটি আসনে দল থেকে মনোনয়পত্র নিলেও রিটার্ণিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে এখনো গ্রহন করেননি।
জেলায় ত্রয়োদশ নির্বাচনে মোট ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩০ জন ভোটার তাদেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৩ জন ও নারী ভোটার রয়েছেন ৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৯ জন। ৮ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও রয়েছেন।
২৩৫ মৌলভীবাজার-১(বড়লেখা-জুড়ি) আসন থেকে ৭টি, ২৩৬ মৌলভীবাজার-২(কুলাউড়া) থেকে ৮টি, ২৩৭ মৌলভীবাজার-৩(সদর-রাজনগর) থেকে ৬টি ও ২৩৮ মৌলভীবাজার-৪(শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) থেকে ৭টি মনোনায়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেহ জমা দেননি। একটি আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে আরেক বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। বিএনপির একাধিক আসনে স্ত্রী ও ছেলের নামেও স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন ফরম তুলা হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, শনিবার(২৭ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ২৮টি মনোনয়নপত্র রিটার্নিং ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তার কার্য্যালয় থেকে সংগ্রহ করেছেন বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ি) নির্বাচনী এলাকা থেকে এপর্যন্ত ৭টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো: আমিনুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস প্রার্থী লোকমান আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী(স্থানীয় ইসলামী দল আল ইসলাহ্) বেলাল আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী সাইফুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি(এরশাদ) আহমেদ রিয়া ও গণফ্রন্ট-০১ এর প্রার্থী মো: শরীফুল ইসলাম। এই আসনে এনসিপির দলীয় মনোনয়ন কেন্দ্র থেকে গ্রহন করলেও নির্বাচন কার্য্যালয়ে জমা করেননি বা ফরম উত্তোলন করেননি সাবেক জেলা যুগ্ন সমন্বয়ক তামিম আহমদ।
এখানে ১টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে মৌলভীবাজার-১(বড়লেখা-জুড়ি) আসন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮১২ জন ভোটার রয়েছেন। এরমধ্যে ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৭ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১১৩ টি, স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ভোট কক্ষ ৬৩২টি। এরমধ্যে জুড়ি উপজেলায় ৪৪টি ভোট কেন্দ্র ও ২৩০ টি ভোট কক্ষ রয়েছে।

মৌলভীবাজার-২(কুলাউড়া) আসনে আট প্রার্থী মনানয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন, স্বতন্ত্র হিসেবে সাবেক তিনবারের এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন(জাতীয় পার্টি জাফর), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র মো: শওকতুল ইসলাম শকু, বাংলাদশ জামায়াত ইসলামীর ইঞ্জিনিয়ার মো: সাহেদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী (আল-ইসলাহ নেতা) মো: ফজলুল হক খান সাহেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান এম জিমিউর রহমান চৌধুরী(ফুল মিয়া), জাতীয়পার্টি(এরশাদ) আব্দুল মালিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ(চরমোনাই) আব্দুল কুদ্দুস ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী । তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি)র পক্ষে এখনো কেউ মনানয়নপত্র সংগ্রহ করেননি।
১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে মৌলভীবাজার-২(কুলাউড়া) আসন। এই আসনের মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৩ হাজার ১৮জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ১২৭ জন ও মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৯১ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১০৩টি ও স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে মোট ভোট কক্ষ ৬০০ টি।

মৌলভীবাজার-৩(সদর-রাজনগর) আসন থেকে ৬টি মনোনয়ন পত্র প্রার্থীদের মধ্যে বিতরন করা হয়েছে। প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি)র সাবেক এমপি ও বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী এর সাবেক জেলা আমির মো. আব্দুল মান্নান, এম নাসের রহমান এর সহধর্মিনী রেজিনা নাসের(স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান কামালী, বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির জহর লাল দত্ত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহমেদ বিলাল। এই আসন থেকে এনপিসির দলীয় মনোনয়ন ফরম কেন্দ্র থেকে উত্তোলন করলেও নির্বাচন অফিস থেকে উত্তোলন করেননি মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া।
১টি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সদর আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ২১২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৩১ জন ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭ জন। চার জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও রয়েছেন। এখানে মোট ভোট কেন্দ্র ১৭৫ টি ও স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ভোট কক্ষ ৯১৩ টি। এরমধ্যে রাজনগরে মোট ভোট কেন্দ্র ৬৬ টি ও স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে মোট ভোট কক্ষ ৩৫২ টি।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসন থেকে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।
মনোনয়ন পত্র সংগ্রহকারী প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে হাজি মুজিব, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম এর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রব, মুজিবুর রহমানের পুত্র মুঈদ আশিক চিশতি(স্বতন্ত্র), শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ন্যাশনাল টি কোম্পানীর পরিচালক মহসিন মিয়া মধু(স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর প্রার্থী মাওলানা শেখ নুরে আলম হামিদী, জাতীয় পার্টি(এরশাদ) মোহাম্মদ জরিফ হোসেন ও বাসদ প্রার্থী মো: আবুল হাসান।

এই আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ন সদস্য সচিব প্রীতম দাস দল থেকে মনোনয়ন পত্র নিলেও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্য্যালয় থেকে এখনো নেননি।
এই আসনে ২টি পৌরসভা ও ১৮ টি ইউনিয়ন মিলিয়ে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৮ জন। এরমধ্যে ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৮ জন ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৮ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৬৩ টি। স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ভোট কক্ষ ৯৩৯ টি। এরমধ্যে কমলগঞ্জে মোট ভোট কেন্দ্র ৭৬ টি ও স্থায়ী-অস্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে মোট ৪৩৭ টি।
মৌলভীবাজারের চারটি আসনের যাচাই-বাছাই করা হবে ৩ রা জানুয়ারী সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত।
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। যাছাই-বাছাই ৩০ ডিসেম্ভর ২০২৫ থেকে ৪ঠা জানুয়ারী ২০২৬ মঙ্গল হতে রবিবার। আপিল দায়ের করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারী সোম থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত। আপিল নিস্পত্তি করা হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারী শনি হতে রবিবার পর্যন্ত। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারী মঙ্গলবার ও প্রতীক বরাদ্ধ ২১ জানুয়ারী বুধবার।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, সুষ্ঠভাবে নির্বাচনে ভোট গ্রহনের জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেখানে যেখানে এখনো পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন রয়েছে সেগুলো সরানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলার চারটি নির্বাচনী আসনে সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছেন প্রতি উপজেলায় দুইজন কওে মোট ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। যাদেরকে ১২ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।