আজ সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পর্যটকদের কাছে টানতে নতুন রূপে ‘পান্তুমাই’

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৬, ২০২৩, ০৮:৩৭ অপরাহ্ণ
পর্যটকদের কাছে টানতে নতুন রূপে ‘পান্তুমাই’

নতুনরুপে ঢেলে সাজানো হচ্ছে সিলেটের গোয়াইনঘাটের পর্যটন ব্যবস্হাপনাকে। যেসব পর্যটন স্পটে পর্যটক সমাগম কম হয় সেগুলোকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে পর্যটন অবকাঠামোগত উন্নয়নে নজর দেয়া হয়েছে।

 

আধুনিক স্হাপথ্যশৈলির মিশেলে নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে তুলতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তরফে গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন স্পট সমুহে কাজ শুরু হয়েছে।  এরই ধারাবাহিকতায় শুরুতেই গোয়াইনঘাটের পান্তুমাই পর্যটন স্পটকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

 

সিলেটের প্রথম পর্যটন গ্রাম হিসেবে পান্তুমাইকে গড়ে তুলতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটন শিল্প বিকাশের আওতায় গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন পান্তুমাইয়ে একটি দৃষ্টি নন্দন কাঠের সেতু,ওয়াশ ব্লক,বিশ্রামের জন্য পর্যটক ছাউনিসহ বেশকিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

মরা পিয়াইন নদীর তীরে,ভারতের মেঘালয়ের টিলা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সবুজ নির্মল ছায়াঘেরা গ্রাম পান্তুমাই। উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের বিশাল পাহাড়, সবুজ গাছপালার বেষ্টনীর অদূরেই প্রকৃতি অপার সৌন্দর্য্য ভান্ডার পান্তুমাই। ভারতের পাহাড়ের বুক চিরে বেয়ে পড়ছে একটি বিশাল ঝর্ণা। নিচে বাংলাদেশ অংশে রয়েছে একটি বিশাল লেক।

 

বর্ষায় পান্তুমাই ফাটাছড়া ঝর্না আর লেকের মনোরম চির সবুজ পরিবেশ প্রকৃতিকে যেন সাজিয়ে তুলে আপন হাতে। ভারী বর্ষন শুরু হলে ঝর্ণার জলরাশি গড়িয়ে পড়ার শব্দ ও অপরু দৃশ্য পর্যটকদের বিমোহিত করে তুলে।

 

স্থানীয়রা এটাকে পান্তুমাই ফাটাছড়া ঝর্ণা বলে থাকেন। চির সবুজ পাহাড়,টিলা বেয়ে গড়িয়ে পড়া জলরাশির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আগন্তুকদের নজর কাড়ে। ফি বছরই এখানকার প্রকৃতির সান্যিধ্যে এসে বিমুগ্ধ হন পর্যটক দর্শনার্থীরা। শুধু সৌন্দর্য কিংবা রূপ-লাবণ্যেই নয়,পুরো পান্তুমাই গ্রামটিই যেন অক্সিজেনের ভরপুর ভান্ডার।

আশপাশে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলেও পান্তুমাই গ্রামে তখন থাকে প্রশান্তির ছোঁয়া। আঁকাবাকা মেঠোপথে মাড়িয়ে প্রতিদিনই পান্তুমাই আগমন ঘটে হাজার হাজার পর্যটক দর্শনার্থীর। এতো দিন এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বা ব্যাপক পদচারণা ঘটলেও তাদের প্রয়োজনে নূন্যতম কোন সুযোগ সুবিধা ছিলোনা। সেই শূন্যতা এখন কিছুটা হলেও গুছবে।

 

সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায় যে বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড,উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ,এলজিএসপিসহ প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ করে পর্যটকদের সহজতর যোগাযোগে একটি দৃষ্টি নন্দন কাঠের সেতু,সাময়িক বিশ্রামের জন্য একটি ছাউনি,একটি ওয়াশ ব্লক গড়ে তুলা হয়েছে। মাটি ভরাটের কাজ চলছে সম্মুখের গর্তময় উঁচুনিচু মাঠে।

 

মাটি ভরাট শেষ হলে মাঠ ও আশপাশে আরও বেশকিছু পর্যটক বান্ধব অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হবে। স্হানীয় পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মামুন পারভেজ জানান,পান্তুমাই পর্যটন কেন্দ্রকে ঢেলে সাজাতে প্রশাসনের উদ্যোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হয়েছে, এতে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদও যুক্ত আছে।

 

পান্তুমাই পর্যটনকেন্দ্রকে ঢেলে সাজাতে ভবিষ্যতেও আমার ইউনিয়ন পরিষদের অংশগ্রহণ থাকবে। প্রশাসনের পাশাপাশি আমি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে পান্তুমাইয়ের আশপাশের পতিত জমিতে ফুল চাষের উপর একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি,পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি স্হানীয় কৃষকরা এতে করে বানিজ্যিকভাবে লাভবান হবেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান জানান,পান্থুমাই নিয়ে একটি বৃহৎ পরিকল্পনা করা হয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক ও স্থপতির সমন্বয়ে এই পরিকল্পনা নির্মাণ করেছেন । সেই মহাপরিকল্পনায় আছে, এই গ্রাম কে একটি পর্যটন গ্রামে পরিণত করা।

 

ইতোমধ্যে এই গ্রামের ১০ জন তরুণ কে কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজমের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলে পর্যটনকে বিকশিত করতে স্থানীয় মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে,তবেই এর ফলাফল পাওয়া সম্ভব। আগামী মাসে গোয়াইনঘাট উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ তরুণ পর্যটন উদ্যোক্তাদের মেঘালয় প্রদেশের মাউলিং গ্রামে পাঠানো হবে।

 

মূল উদ্দেশ্য এশিয়ার পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে পরিচিত এই স্থানটি কিভাবে পরিচালিত হয় তা শিখে আসা এবং এর অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগানো। এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অনেকেই পাথর-বালির শ্রমিক ছিলেন। তাদের জন্য পর্যটন কে আমরা বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০