গোলাপগঞ্জ উপজেলার হাজী আব্দুস সহিদ মহিলা আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদরাসার সম্পদ আত্মসাতের পর এবার অবৈধ এবং বিধি বহির্ভূত পন্থায় শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার ৬নং ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের নিশ্চিন্ত গ্রাম এবং হাজী আব্দুস সহিদ মহিলা আলিম মাদরাসা কমিটির পক্ষে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তদন্তপূর্বক প্রতিকার চেয়ে সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবর দরখাস্ত দেওয়া হয়।
মাদরাসা কমিটি এবং নিশ্চিন্ত গ্রামবাসীর পক্ষে মাদরাসার গর্ভনিংবডির সদস্য সাহেল আহমদ স্বাক্ষরিত দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়, হাজী আব্দুস সহিদ মহিলা আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিকুল ইসলাম অতীতে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য দুর্নীতির আশ্রয় ও ছলছাতুরি করে মাদরাসার অর্থসম্পদ আত্মসাত করেন যা এলাকাবাসী অবগত।

২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিলকৃত দরখাস্তে বলা হয়, কমিটির অজান্তে নিয়ম বর্হিভূতভাবে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম ৬জন শিক্ষক নিয়োগ দেন। যেখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ডিজির প্রতিনিধির চিঠি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল-জালিয়াতিরও অভিযোগ করেছেন দরখাস্তকারী।
নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন, আরবি প্রভাষক পদে মাওলানা মোঃ আবু বক্করকে ২০০৪ সালের ১২ ডিসেম্বর নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি দাখিল পাঠদানের জন্য অনুমতি পায়। জুনিয়র মৌলভী পদে আব্দুল আখেরকে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বর নিয়োগ দেওয়া হলেও এই পদে ২০০৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত নিয়োগ বিধির মাধ্যমে মালানা মো. গৌছ উদ্দিন (হেলালী) চাকুরিরত ছিলেন।
এদিকে ২০২৪ সালে জুনিয়র মৌলভী পদ থেকে পদায়ন করে ইবতেদায়ী প্রধান হিসেবে ২০০৪ সালের ৯ ডিসেম্বর নিয়োগ পান দ্বীন মোহাম্মদ (শরীর চর্চা), আইসিটি শিক্ষক পদে সালমা আক্তারকে ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল নিয়োগ দেওয়া হয় এবং গ্রন্থারিক পদে ফখরুজ্জামান, সহকারী মৌলভী পদে আব্দুল আলিমকে নিয়োগ দেন অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম।
দরখাস্তের মাধ্যমে জানা যায়, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ২০০৪ এবং ২০১৫ সালে নিয়োগ দেখানো হলেও বাস্তবে তারা মাদরাসায় যোগদান করেন ২০২৪ এবং ২৫ সালে।