সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বংশীকুন্ডা বাজারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় হাওর সাহিত্য গণপাঠাগারটি প্রতিনিয়ত স্থানীয় পড়ুয়াদের জ্ঞানের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে। মানুষের অসীম কৌতূহল ও প্রশ্নের উত্তর ধরে রাখে বই। শতাব্দী ধরে মানুষের অর্জিত জ্ঞান জমা হয়েছে বইয়ের পাতায়। আর সেই বইয়ের আবাসস্থল হলো পাঠাগার।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাই লিখেছেন, ‘এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে’। পাঠাগার হলো এমন এক খেয়াঘাট, যার মাধ্যমে মানুষ সময়ের পাতায় ভ্রমণ করতে পারে।
হাওরাঞ্চলের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে ও বই পড়ার সুযোগ করে দিতে গড়ে ওঠে সাহিত্য চর্চাকেন্দ্র ‘হাওর সাহিত্য গণপাঠাগার’। কয়েক বছরের মাঝেই পাঠাগারটি পাঠক ও লেখকের মনে আস্থা তৈরি করেছে। সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষক ও হাওরকবি জীবন কৃষ্ণ সরকার ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাত্র ২৫০টি বই, পাঁচটি চেয়ার, দটি টেবিল ও একটি বইয়ের শেলফ নিয়ে এ গণপাঠাগার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।
এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকেই পাঠাগারের সদস্যপদ লাভ করেছেন এবং পাঠাগারে বইসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র দান করেছেন। এখন এখানে বইয়ের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার। ৩৯ জন আজীবন সদস্যসহ মোট সদস্য ২৯৮ জন।
জীবন কৃষ্ণ সরকারের বাড়ি মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বাট্টা গ্রামে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন শেষে ২০১৫ সালে বংশীকুন্ডার লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। এরপর ২০১৭ সালে গণপাঠাগার কার্যক্রম শুরু করেন।
পাঠাগারটির উদ্যোগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দাতিয়াপাড়া লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক ডা. মিরাজ উদ্দিন স্মরণে প্রথম হাওরসাহিত্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। এর পরের বছর সেপ্টেম্বরে সুনামগঞ্জ জগৎজ্যোতি পাঠাগারে আয়োজন করা হয় দ্বিতীয় হাওরসাহিত্য উৎসব। দুটি উৎসবেই বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে কয়েক শতাধিক কবি, সাহিত্যিকসহ নানান শ্রেণি-পেশার বইপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন।
পাঠাগারের শুরু থেকে প্রতি শুক্রবার সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এ রকম আড্ডার সংখ্যা ১৪১। এখানে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, রচনা ও বই পড়া প্রতিযোগিতা হয় ও বিজয়ীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও করা হয়।
মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাজেদা আহমেদ বলেন, পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকে আমি পাশে আছি। বর্তমানে পাঠাগারটি হাওরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মের কাছে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা (শেষ পাতার পর)
হিসেবে পরিচিত।
পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা হাওরকবি জীবন কৃষ্ণ সরকার জানান, দুর্গম হাওরাঞ্চলে পাঠাগারটি পরিচালনা করতে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, পাঠাগারটি ইতোমধ্যে সরকারি অনুদানভুক্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে পাঠাগারটি আরো সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে বলে আমি মনে করি।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, পাঠাগার হলো মানুষের জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র। এখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আসে জ্ঞান অর্জনের জন্য। দুর্গম অঞ্চলে এমন একটি পাঠাগার স্থাপন প্রশংসনীয় উদ্যোগ। পাঠাগারটির উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন সবধরনের সহযোগিতা করবে।