আজ ,

দুর্যোগ দুর্বিপাকে জনগণের নির্ভরতা ও ভরসার ঠিকানা আওয়ামী লীগ: নানক

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ৭, ২০২২, ১১:০১ অপরাহ্ণ
দুর্যোগ দুর্বিপাকে জনগণের নির্ভরতা ও ভরসার ঠিকানা আওয়ামী লীগ: নানক

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, আকস্মিক বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের এলাকার মানুষ বন্যাকবলিত হয়। প্রায় ১০০ বছরের মধ্যে এরকম বন্যা মানুষ দেখেনি। এই বন্যায় মানুষ দিশেহারা হয়ে গেছে। বন্যার কারণে মানুষ যখন নিজের ঘরের প্রয়োজনীয় একটি জিনিস নিয়েও বের হতে পারেননি। পানি বন্দি হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। তখন তাদেরকে কিভাবে উদ্ধার করা যায় তা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করেছেন।

তিনি সারারাত সিলেট, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক সহ সামরিক বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন। তাদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কাজ করেছেন। আপনাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোন ভূঁইফোড় দল নয়।

আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের দুর্যোগ দুর্বিপাকে সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। আওয়ামী লীগ হলো দুর্যোগ দুর্বিপাকে জনগণের নির্ভরতা এবং ভরসার স্থল ও ঠিকানা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সহ যে সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য সংগঠন জনগণের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে মোবারকবাদ জানাই। তিনি বলেন, আমি বক্তৃতা দিতে আসি নাই।

শুধু মাত্র আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। বন্যার সময় মানুষ যখন দিশেহারা তখন বাংলাদেশের গণমানুষের প্রাণ প্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যার্ত মানুষের খবরাখবর নেওয়ার জন্য ছুঁটে এসেছিলেন। তিনি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ বাহিনী সহ বেসামরিক প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন আগে বন্যার্ত মানুষদেরকে উদ্ধার করেন, তাদেরকে বাঁচান এবং তারপর খাদ্যের ব্যবস্থা করেন।

আর আওয়ামী লীগ সর্বশ দিয়ে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কিছু কিছু রাজনৈতিক দল আছে। মানুষের প্রতি যাদের কোনো দায়িত্ববোধ নেই, নৈতিকতা নেই, কর্তব্যপরায়নতা নেই। তারা শুধু ফটোসেশানের জন্য এসেছেন। মুড়ি ও কলা দেওয়ার জন্য এসেছেন। মুড়ি ও কলা দিয়ে মানুষের সামনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য প্রদান করেন। আসলে এটাই তাদের নষ্ট চরিত্র। আর এই চরিত্র হলো বিএনপির। বিএনপি মানুষের জন্য সৃষ্টি হয়নি। বিএনপি মানুষের জন্য কিছু করেছে তারও প্রমাণ নেই।

বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই ) নবগঠিত ২৯নং ওয়ার্ডের চন্ডীরপুল এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সিলেট বন্যাদূর্গত এলাকায় বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতার জন্য ত্রাণ নিয়ে এসেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বন্যাকবলিত দুর্গত মানুষের পুনর্বাসনের ঘর তৈরির জন্য ঈদের পূর্বে দশ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ সহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন৷ শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার সহ বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। এই কাজ আওয়ামী লীগ বরাবরই করে থাকে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তিন টার্ম ধরে ক্ষমতায় আছে। আওয়ামী লীগ আজকের দল নয়। এই দল ৭৩ বছরের পুরনো দল।

আওয়ামী লীগ জানে দুর্যোগ কিভাবে মোকাবিলা করতে হয়। বঙ্গবন্ধু দুর্যোগ মোকাবেলা করেছেন এবং তাঁর সুযোগ্য কন্যাও বিরোধী দল থাকাকালীন সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত দুর্যোগ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং বানভাসি মানুষের পাশে রয়েছেন। শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে আমরা আপনাদের পাশে রয়েছি। আপনারা কোনো ভয় পাবেন না, একাকীত্ব বোধ করবেন না। মহান আল্লাহতালা ওপরে আছেন। আর নিচে আপনাদের ভরসার জায়গা হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা রয়েছেন। আপনাদের জন্য ত্রাণ বিতরণ সহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা অব্যহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সুজিত রায় নন্দী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গত ২১ জুন সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

তিনি প্রশাসনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। বন্যাকবলিত দুর্গত মানুষদের জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেনাবাহিনী,নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী সহ প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দিয়েছেন। বন্যা শুরুর পর থেকেই আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে রয়েছে। দুর্যোগ দুর্দিনে জনগণের পাশে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। জননেত্রী ১৯৮৮ সালে বিরোধী দলে থাকাকালীন এবং ১৯৯৮, ২০০৪ ও বর্তমান সময়ের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।

তিনি জানেন দুর্যোগ কিভাবে মোকাবিলা করতে হয়। চিন্তার কারণ নেই, বিপদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সাথে রয়েছেন, আওয়ামী লীগ আপনাদের পাশে রয়েছে। নেত্রীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সিলেটে বার বার ছুঁটে আসছেন। তিনি বলেন, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে আমাদের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রয়েছে। এই দুর্যোগ কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে আপনাদের ফিরিয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি তিনি সবাইকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বক্তব্য শেষ করেন।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দীন খান, সিলেট-৩ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, জগদীশ চন্দ্র দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, বিধান কুমার সাহা, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক তপন মিত্র, দপ্তর সম্পাদক খন্দকার মহসিন কামরান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নজমুল ইসলাম এহিয়া, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক সেলিম আহমদ সেলিম, উপ-দপ্তর সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি, সহ-প্রচার সম্পাদক সোয়েব আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল আজিম জুনেল, এমরুল হাসান, সৈয়দ কামাল, ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুসফিক জায়গিরদার, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ প্রমুখ।