আজ রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অর্ধেক নামাজের পর মসজিদ ‘খালি’ কারণ কী?

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত মার্চ ২৪, ২০২৪, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
অর্ধেক নামাজের পর মসজিদ ‘খালি’ কারণ কী?

রমজানের শুরুতে মসজিদ ভরপুর থাকে। প্রথম তারাবির নামাজ আর পরের দিনগুলোর তারাবির নামাজের দৃশ্যপট দেখলে বুঝা যায় যে, প্রথম তারাবির গুরুত্ব পৃথক। কিন্তু না, তা হল আমাদের জ্ঞান স্বল্পতা ও খেয়ালিপনা আর নামাজের প্রতি অযতœই এর একমাত্র কারণ। 

তারাবির নামাজ ২০ রাকাত। লক্ষ্য করে দেখা যায়, তারাবির শুরুতে অংশ নিয়ে অর্ধেক বা তারও কম আদায় করে মসজিদ থেকে বের হয়ে যান কিছু মুসল্লি।

 

রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো তারাবির নামাজ। হযরত আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে সওয়াবের আশায় কিয়ামে রমজান আদায় করবে আল্লাহ তাআলা তার পেছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন।-বুখারী, হা/২০০৯; মুসলিম, হা/৭৫৯

আরো একাধিক হাদীসে কিয়ামে রমযান তথা তারাবীর নামাযের কথা বর্ণিত হয়েছে।

 

সাহাবায়ে কেরাম থেকে নিয়ে এ সুন্নতের ওপর আজও মুসলিম উম্মাহর আমল চলে আসছে। প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে মুসলিম জনপদগুলোতে রমযান মাসে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তারাবি আদায় করা হচ্ছে। রাসূলের সুন্নাহ অনুসারী কোনো মুসলিম কখনো এ আমলকে গুরুত্বহীন বা কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি। কিন্তু আজকাল দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের মতো অনেকের মধ্যে এ মহান আমলের প্রতিও গুরুত্বহীনতা ও অনাগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেউ কেউ নিজের মনমতো যেদিন যত রাকাত ইচ্ছা আদায় করছেন। কেউ আবার জামাতে শরীক না হয়ে একা একা কিছু রাকাত পড়েও নিচ্ছেন। কেউ তো মোটেই পড়ছেন না। অথচ তারাবীর নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর রমজানের সিয়াম ফরজ করেছেন এবং আমি (আল্লাহ তাআলার হুকুমে) কিয়ামে রমজান (অর্থাৎ তারাবীর নামায)-এর বিধান জারি করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমজানের রোজা রাখবে এবং রাতে নামাজ (তারাবি) পড়বে সে যাবতীয় গুনাহ থেকে নবজাতক শিশুর মতো পবিত্র হয়ে যাবে।-মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৬০, ১৬৮৮; সুনানে নাসায়ী, হা/২২১০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হা/১৩২৮

 

সকল ইমামের ঐক্যমতে তারাবির নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা এবং তা বিশ রাকাত। হাজার বছর ধরে এর ওপরেই আমল হয়ে আসছে।-জামে তিরমিযী ১/১৬৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৪৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩৪-২৩৫; আলমুগনী ১/৮৩৩

 

তারাবির নামাজ নারী-পুরুষ সকলের জন্যই সুন্নতে মুআক্কাদা।-আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৪৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩৪-২৩৫; রদ্দুল মুহতার ২/৪৩

 

তারাবীর নামাজ দুই রাকাত করে বিশ রাকাত পড়া সুন্নত। প্রত্যেক চার রাকাতের পরে কিছুক্ষণ বিরতি দেবে। এই বিরতিকে আরবীতে ‘তারবিহা’ বলে। এসময় তাসবিহ-তাহলীল পড়া বা চুপ থাকা সবই জায়েয। এসময়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দুআ কুরআন কারিম বা হাদীসে বর্ণিত হয়নি।-আলবাহরুর রায়েক ২/৬৯; রদ্দুল মুহতার ২/৪৫-৪৬

 

আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার নেক আমলের সওয়াব এমনিতেই বহু গুণে বাড়িয়ে দেন। রমজান তো আরো মর্যাদাপূর্ণ মাস। এমাসের ফজিলত ও আমলের সওয়াবও অন্য সময়ের চেয়ে বেশি। কাজেই আমরা আল্লাহ প্রদত্ত সওয়াব অর্জনের এ সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাই এবং এর যথাযথ কদর করি।

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০