আজ ,

মেয়েকে নিতে এসে শ্বশুরবাড়িতে উত্তেজনা, মারা গেলেন শ্বাশুড়ি 

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ণ
মেয়েকে নিতে এসে শ্বশুরবাড়িতে উত্তেজনা, মারা গেলেন শ্বাশুড়ি 

জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের উত্তরকুল গ্রামে প্রায় দেড় বছর ধরে নানা বাড়িতে থাকা ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে নিজ হেফাজতে নিতে গিয়ে শ্বশুরবাড়িতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে মারা যান হাসনা বেগম (৬৫) নামে এক নারী।

তিনি উত্তরকুল গ্রামের মৃত আব্দুল মুমিনের স্ত্রী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবার হামলার অভিযোগ তুললেও তা অস্বীকার করেছেন মেয়ের বাবা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্যেও ভিন্নতা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার উত্তরকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে মাওলানা ফুজায়েল আহমদের ১৪ বছর বয়সী মেয়ে বাবার বাড়ি ছেড়ে নানা বাড়িতে চলে আসে। এরপর থেকে সে সেখানেই অবস্থান করছিল।

রোববার সকালে মেয়েকে ফিরিয়ে নিতে শ্বশুরবাড়িতে যান ফুজায়েল আহমদ। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাসনা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মেয়ে হান্না বেগম ও নাসিমা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁদের বোনের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে আছেন। তাঁদের দাবি, নিজের মেয়ের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠার পর কিশোরীটি বাবার বাড়ি ছেড়ে নানা বাড়িতে আশ্রয় নেয়। রোববার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জোরপূর্বক মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়ায় হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় তাঁদের মা মারধরের শিকার হন এবং পরে মারা যান। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

 এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাওলানা ফুজায়েল আহমদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন একটি কবিরাজের প্রভাবে আটকে রেখেছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি আগেই পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা

ফুজায়েল আহমদের স্ত্রী মরিয়ম আক্তারও বলেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। সেখানে কোনো ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু বলেন, পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তাঁর জানা মতে, ঘটনাস্থলে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই জানা যাবে।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।