আজ ,

সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রস্তুত সিসিকের আট টিম

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ১৯, ২০২২, ০৯:০৭ অপরাহ্ণ
সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রস্তুত সিসিকের আট টিম

সিলেট নগরীবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। একঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা।মাত্রাতিরিক্ত জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

এমন পরিস্থিতিতে মেয়রের একসময়ের ঘনিষ্ঠজন সিসিক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা রেজাউল হক লোদীও মেয়রকে খোঁচা মেরে জলাবদ্ধতা নিয়ে স্ট্যাটাস দেন।এ নিয়ে নগরভবনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এমতাবস্থায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে মতবিনিময় করলেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। জলাবদ্ধতা নিরসনে নগর ভবনের পরিকল্পনা জানাতেই সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র আরিফ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিসিকের ৮টি স্ট্রাইকিং টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম নগরীর যেখানে জলাবদ্ধতা সেখানে গিয়ে কাজ করবে।

মঙ্গলবার দুপুরে নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গত তিনদিন আগে হঠাৎ করে প্রবল বর্ষণের কারণে সিলেট নগরের প্রায় সব এলাকা নিমজ্জিত হয়। যে কারণে আমাদের অনেকের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করে। জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। আবহাওয়ার বিরূপ কারণে প্রকটভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে এই সমস্যা।’

তিনি বলেন, ‘গত শনিবার দিনে অস্বাভাবিক তাপদাহের পর রাতে অল্প সময়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির কারণে আকস্মিক দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে। সেই দুর্ভোগের শিকার আমি নিজেও। যদিও আমার বাসা নগরের মধ্যভাগে উঁচু এলাকায়। শনিবার রাতে ১১টা ২ মিনিট থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ৫৮ মিনিটে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ওইদিন মোট ৬ ঘণ্টায় ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। যা সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে কম সময়ে বেশি বৃষ্টির রেকর্ড। এটিকে অতিপ্রাকৃতিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।’

মেয়র আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আমরা তাৎক্ষণিক সচেষ্ট হই। আবহাওয়া অফিসের আগাম সতর্কবার্তায় এই অতিপ্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় করেছি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছি। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে, সেদিক বিবেচনায় আমরা সিসিকে জরুরি সভার আয়োজন করেছি। আমাদের করণীয় নির্ধারণ করেছি এরইমধ্যে। দিন কিংবা রাত, যেকোনো সময় অতিবৃষ্টি শুরু হলে আমাদের ৮টি স্ট্রাইকিং টিম পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আমিসহ সকল কাউন্সিলর, কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ মাঠে থাকবো ইনশা আল্লাহ!’

আরিফ বলেন, ‘জলাবদ্ধতার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে, তা স্বীকার করতে আমার কোনো অসুবিধা নাই। এবারে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে গেছে। আমাদের ধারণা ছিল, দুই মাস আগে বৃষ্টি শুরু হবে। বঙ্গবীর রোডে যে জলাবদ্ধতা, তা আমাদের উন্নয়নকাজ চলাকালীন আগাম বৃষ্টি চলে আসায় সৃষ্টি হয়েছে। এবারের বন্যায় দলদলি বাগানের টিলা ধসেছে। যার ফলে পলি এসে আমাদের ড্রেন ভরে গেছে। আমাদের যে ছড়া-খাল বা ড্রেনের গভীরতা ছিল, একটানা বর্ষা মৌসুমে আমরা এগুলোতে কাজ করতে পারিনি। কারণ, বন্যা ছিল, বৃষ্টি ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের একটু সচেতনতার অভাব আছে। বাড়িতে যতো আবর্জনা আছে, কাপড় থেকে শুরু করে লেপ-তোষক সবই ড্রেনে ছেড়ে দিয়েছেন। সবমিলিয়ে ড্রেন বা ছড়ার যে নাব্যতা, সেটাও লোপ পেয়েছে। তারপরে আমাদের রাস্তাঘাট পরিষ্কার করি রাত ১২টার পরে। সেদিন যে বৃষ্টি হলো, রাত ১১টা থেকে। আমাদের কর্মীরা তখন কাজ শুরু করেনি। তখন পথচারীরা বা ব্যবসায়ী ভাইয়েরা যেসব পলিথিন-টলিথিন রাস্তায় ফেলেছিলেন, সব গিয়ে ড্রেনের ছিদ্রগুলো ব্লক করে দেয়। পানি তখন কাটতে (নামতে) পারেনি। একদিকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে ব্লকের কারণে পানি ড্রেন দিয়ে নামতে পারেনি। জলাবদ্ধতা হওয়ার এটা অন্যতম কারণ।’

আরিফ আরও বলেন, ‘বন্যার পরপরই কোরবানির ঈদ চলে এলো। ফলে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আমাদের দুর্ভাগ্য, যদি পয়েন্টে পয়েন্টে বা আমাদের ড্রেনগুলোতে যে ময়লা জমছিল, সেগুলো যদি আমরা পরিষ্কার করে ফেলতাম, তাহলে শহরের অনেক জায়গায় পানি ওঠতো না বলে বিশ্বাস। আমরা আসলে এতো বেশি বৃষ্টি হবে, এটা চিন্তাও করিনি।’

এসময় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) বিধায়ক রায় চৌধুরী সবিচ ফাহিমা ইয়াসমিন, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজসহ সিসিক কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।