রঙীন লাল-নীল, বেগুনী রঙের গেইট। আলোকসজ্জায় ফুটে উঠেছে পুরোটা নগর। শপিংমলের সামনে আলাদা সামিয়ানাও টানানো হয়েছে। সবমিলিয়ে এক সাজ সাজ রব বিরাজমান সিলেটে।
রোজার শুরু থেকে এরকম সাজসজ্জা পরিলক্ষিত হলেও ঈদ বাজার কিন্তু জমে উঠেছে শেষ দিকে। শেষ প্রহরগুলোকে ঈদবাজারের শেষ সময় মনে করে বেচাকেনাও বাড়ছে সমান তালে।
নগরীর বন্দরবাজার, বারুতখানা, কুমারপাড়া, নয়াসড়ক, জিন্দাবাজার, মিরবক্সটুলাসহ বিভিন্ন স্থানের মার্কেট আর শপিংমলে ভীড় করছেন ক্রেতারা।
বুধবার দুপুরে দিকে নগরীর জিন্দাবাজারের ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটি, আল-হামরা শপিং সেন্টার, শুকরিয়া মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি শপিং মলে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন আর দোকানে দোকানে তুলেছেন বাহারী ডিজাইনের পোশাক।
অপরদিকে নগরের ফ্যাশন পাড়া হিসেবে পরিচিতি কুমারপাড়া ও নয়াসড়ক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে দিনের বেলা ক্রেতাদের সমাগম তেমন একটা নেই। এই দুই এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, তুলনামূলক দিনের থেকে রাতের বেলা ক্রেতারা বেশী আসছেন।
আর মাত্র একদিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। গত তিনবছর করোনার প্রকোপে বিধিনিষেধ ছিল ঈদের বাজারে। ব্যবসা হয়নি বললেই চলে। তাই এবার করোনার সংক্রমণ কমে আসায় বিধিনিষেধের বাইরে রয়েছে সবকিছু। তাই বিগত ক্ষতিগুলো পুষিয়ে উঠার স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা। কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে আসায় খুশি ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠে তিন বছর পর ব্যবসায় গতি ফিরে আসায় স্বস্তিতে রয়েছেন বিক্রেতারা।
নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজার করিম উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী কলাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজল হোসেন বলেন, এবার ঈদে বেচাকেনা ভালো আছে। তবে এখন রাতের বেলায় ক্রেতারা বেশী আসছেন।
এদিকে সিলেটের বৃহৎ পাঞ্জাবী থান কাপড় ও টেইলার্স মার্কেট করিম উল্লাহ মার্কেটে ইতোমধ্যে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন দর্জিরা।
এই মার্কেটের ব্যবসায়ী, নিবরাস এর পরিচালক রোটারিয়ান এ এস এম আরিফ হোসেন বলেন, থান কাপড় বিক্রি আপাতত বন্ধ কারণ দর্জিরা অর্ডার নিচ্ছেন না। এখন শুধুমাত্র রেডিমেড পাঞ্জাবী, পায়জামা, লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে।
ফ্যাশন সচেতন তরুণরা ছুটছেন জিন্দাবাজারের শুকরিয়া, সিটি শপিংসিটি, কাজী ম্যাশনসহ বিভিন্ন মার্কেটের গড়ে ওঠা দর্জির দোকানে। আবার ছেলেদের শার্ট-প্যান্ট তৈরির যোগান দিচ্ছে স্থানীয় নামকরা সব টেইলার্স। সাথে পাঞ্জাবি তৈরির দোকানগুলোতেও ভিড় বেড়েছে।
এদিকে, ঈদ বাজারকে নির্বিঘ্ন করতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নগরীর বিভিন্ন মার্কেট আর শপিং মলে নিরাপত্তা জোড়দার করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ।
মহানগর পুলিশের মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, দশ রমজানের পর থেকে শহরের প্রতিটি মার্কেটে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি রাখছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশি তল্লাশি অব্যাহত আছে।