আজ মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটের এসএমই মেলা: প্রচার নেই-ক্রেতাও নেই

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ণ
সিলেটের এসএমই মেলা: প্রচার নেই-ক্রেতাও নেই

প্রচার-প্রচারণার অভাবে ক্রেতা শুন্য অবস্থায় স্টল নিয়ে বসে আছেন এসএমই মেলায় আসায় উদ্যোক্তারা। সিলেট নগরীর বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে (আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স) চলছে আঞ্চলিক এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা) পণ্য মেলা। যা শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পর্যন্ত চলবে।

১১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই মেলাটিতে শুরু থেকে ক্রেতা টানতে পারে নি কেবল প্রচারণার অভাবে, তাই আশানুরূপ সাড়া পড়েনি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, দেশীয় থ্রি-পিস, ব্লক-বাটিক, বেডকভার, হ্যান্ডপেইন্ট, চুড়ি, গামছা ও মেকরামের আয়নাসহ নানা পণ্যে ভরপুর স্টলগুলো। এসব পণ্যের বেশির ভাগই উদ্যোক্তাদের নিজের হাতে তৈরি, যা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।

টাঙ্গাইল থেকে আসা উদ্যোক্তা উর্মি আক্তার পরী বলেন, “আমরা নিজের হাতে তৈরি পণ্য নিয়ে আসি, যাতে বিক্রির পাশাপাশি বায়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি। কেউ ২০ শতাংশ, কেউ ৪০, আবার কেউ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত অর্ডার দেয়। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলো সরবরাহ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “মেলায় অংশ নিতে খরচ অনেক বেশি। সরকার যদি অন্তত স্টল ভাড়া মওকুফ করত, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।”

তিনি জানান, তাঁর স্টলে শাড়ির পাশাপাশি চুড়ি, গামছা ও মেকরামের আয়নাও রয়েছে। বিশেষ করে মেকরামের আয়নাগুলো তৈরি করেছেন তাঁর এইচএসসি পড়ুয়া মেয়ে, যিনি এখন অন্যদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন।

দেশীয় থ্রি-পিস, ব্লক-বাটিক ও বেডকভার নিয়ে আসা এক উদ্যোক্তা বলেন, “প্রচার-প্রচারণা কিছুটা কম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সে কারণে মানুষের উপস্থিতি কম। খরচ উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা আছে। তবে বৈশাখ উপলক্ষে ভিড় বাড়বে বলে আশা করছি।”

হ্যান্ডপেইন্ট ও ব্লক প্রিন্টের পণ্য নিয়ে অংশ নেওয়া আরেক উদ্যোক্তা জানান, মেলা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও এখনো অনেকেই এ আয়োজনের খবর জানেন না।

তিনি বলেন, “গত দুই দিনে ভালো সাড়া পেয়েছি। তবে প্রচারণা বাড়লে আরও ভালো হবে।”

মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সন্তানদের নিয়ে আসা এক অভিভাবক বলেন, “পণ্য ভালো লাগছে, তবে কালেকশন আরও বেশি থাকলে ভালো হতো। অনেক কিছু পছন্দ হচ্ছে, কিন্তু সব সাইজ পাওয়া যাচ্ছে না।”

শাহজালাল সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী মাহিয়া খাতুন মাহা বলেন, “এমন মেলায় আসতে ভালো লাগে। হাতে তৈরি দেশীয় পণ্যগুলো দেখতেও ভালো লাগে। এগুলো কিনলে উদ্যোক্তারা উৎসাহ পাবে।”

একজন শিক্ষক বলেন, “পণ্যের মান অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। দুপুরের তুলনায় সন্ধ্যার পর মেলা জমে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীও বাড়বে বলে আশা করছি।”

আরেক শিক্ষক মনে করেন, সিলেটের মানুষ দেশীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহী। তাঁর মতে, “স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকলে মেলাটি আরও জমে উঠবে।”

ঢাকা থেকে আসা এক উদ্যোক্তা জানান, তিনি প্রিমিয়াম মানের কোট-পিন্ট ও ক্রিস্টাল ক্রেস্ট গিফট আইটেম নিয়ে এসেছেন। তাঁর ভাষ্য, “সন্ধ্যার পর ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।”

মেলায় আসা শিশু-কিশোররাও বেশ উচ্ছ্বসিত। অভিভাবকদের সঙ্গে এসে পছন্দের জিনিসপত্র কিনছে তারা। অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠেছে অবসর কাটানোর একটি আনন্দঘন জায়গা।

উদ্যোক্তারা বলছেন, নিয়মিত এমন আয়োজন হলে দেশীয় পণ্যের প্রসার বাড়বে এবং নতুন বাজার তৈরি হবে। আর দর্শনার্থীদের প্রত্যাশা—প্রচারণা বাড়লে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠবে এই এসএমই মেলা।বিলে

মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নিয়ে এসেছেন নিজেদের হাতে তৈরি নানা পণ্য।

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১