শপিংমল-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর করতে নগরীতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। রোববার ঘড়ির কাটায় যখন নয়টা ত্রিশ। এর পরপরই নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, শিবগঞ্জবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন। ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ করে নির্দেশনা মানার কথা বলেন।
রোববার রাত সাড়ে ৯টার পরে মুদি দোকানগুলোর অর্ধেক সাঁটার ফেলে গ্রাহকসেবা দিতে দেখা যায়। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ভূষিমালের দোকানে ভীড় জমান ক্রেতারা।
এক সপ্তাহ আগে ১ ডিসেম্বর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ‘রাত সাড়ে ৯টার পর দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা’র সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে নগরবাসীর মাঝে ৭ ডিসেম্বর নিয়ে একটা কৌতুলে জন্ম নিয়েছিল।
তবে এই নির্দেশনার বাইরে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ওষুধের দোকান থাকবে বলেও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
এসএমপি সূত্রে জানা যায়, ১ ডিসেম্বর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্যবসায়ী নেতা এবং বাজার কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দোকান বন্ধের এই সময়সূচি নির্ধারিত হয়। সভা শেষে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ওষুধের দোকান ছাড়া নগরীর সব ধরণের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
একই সঙ্গে যানজট নিয়ন্ত্রণে বাজার ও শপিংমলগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শহরের যেসব প্রতিষ্ঠানের নকশায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও তা পরবর্তীতে দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে সেগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুনরায় পার্কিং সুবিধা হিসেবে উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সিলেট সিটি করপোরেশনও একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল, কিন্তু তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয়নি। তবে এবার পুলিশ প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের কারণে ব্যবসায়ীরা এ নির্দেশনা মেনে চলেছে। এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর হলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে আশা করছে পুলিশ প্রশাসন। এ নির্দেশনা রাত্রিকালীন বাণিজ্যে কিছুটা প্রভাব পড়লেও নগরীর স্বার্থে ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর, মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,‘আজকে (রোববার) থেকে রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে শপিংমল বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন বলেন, ‘বিদুৎ সাশ্রয়ের জন্য মহানগর পুলিশের কমিশনার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা জনস্বার্থে বিষয়টি মেনে নিয়েছি। বড় শপিংমল বা মার্কেট আমরা সাড়ে ৯টার আগে বন্ধ রাখবে। বাইরের কিছু দোকান আছে তাদেরকেও আমরা অনুরোধ করেছি রাত সাড়ে ৯টার পর দোকান খোলা না রাখতে। তবে, কাঁচাবাজার, ফার্মেসী ও মুদি দোকান যাতে খোলা থাকে সে ব্যাপারে আমরা পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ করেছি’।