আজ সোমবার, ১২ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাল্টে যেতে পারে সিলেটের ছয় আসনে হিসাব-নিকাশ

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ০২:৪১ অপরাহ্ণ
পাল্টে যেতে পারে সিলেটের ছয় আসনে হিসাব-নিকাশ

সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে ১৪টির প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই এসব আসনে চলছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। দাবি উঠেছে বিভিন্ন আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি বিভিন্ন আসনে প্রার্থী মনোনয়নে প্রাধান্য পায়নি তাদের মতামত। ফলে বিভিন্ন আসনে তৈরী হয়েছে বিশৃঙখলা। এসব আসনে দিন দিন জোরালো হচ্ছে তৃণমূলের দাবি। অনাকাঙ্খিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট বিভাগের ৬ টি আসনে হিসাব-নিকাশ অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে সিলেটের বেশ কয়েকটি আসনে ত্যাগী ও জনপ্রিয় প্রার্থীরা মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে চলছে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ নানা কর্মসূচী। এতে করে তৃণমূলে বাড়ছে উত্তাপ আর দলীয় কোন্দল। ফলে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীর মধ্যে বিভক্তি বাড়ছে। যেকোন সময় বড় ধরনের ঘটনারও আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।

তাদের মতে, দেশের বিভিন্নস্থানে মনোনয়ন প্রাপ্তদের ও মনোনয়ন বঞ্চিতদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এসব বন্ধ করতে হলে সিলেটে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট জেলা বিএনপির এক নেতা সিলেটের মানচিত্রকে বলেন, দেশের ২৩৭টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পর পর বিভিন্ন অঞ্চলে নানা ঘটনা ঘটেছে। সিলেটেও এমনটি যেকোন সময় ঘটতে পারে। সিলেটের অনেক আসনে তাদের কোন মতামত নেওয়া হয়নি। যেভাবে প্রার্থী দিলে তৃণমূল আনন্দিত হয়ে মাঠে নামার কথা সেটি হচ্ছেনা। আর এটি যদি না হয় তাহলে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থীদের কাছে হারতে হবে দলীয় প্রার্থীকে।

সুনামগঞ্জ বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, আমরা হতবাক হলাম। ত্যাগী নেতাকর্মীদের নাম কেনো কেন্দ্র মূল্যায়ণ করেনি সেটাই আমার বোধগম্য হচ্ছেনা। আমরা ঠিকই তৃণমূলকে প্রাধান্য দেওয়ার সুপারিশ করেছি। কিন্তু গত ৩ নভেম্বর প্রার্থী তালিকা দেখে আমাদের সুনামগঞ্জে হতাশা দেখা দিয়েছে। তিনি যেসব আসনে প্রার্থী মনোনয়নের দাবি উঠেছে ওই আসনগুলোতে রিভিউ করার দাবি জানান। শুধু সিলেট বা সুনামগঞ্জ নয়, জেলার প্রতিটি আসনেই প্রার্থী রিভিউ করার দাবি জানান জেলার নেতারা।

দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন আগামী নির্বাচন বিএনপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। যার ফলে বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে রিভিউ আবেদন করতে দেখা গেছে অনেক স্থানে। বিগত সরকারের যেসব আসনে প্রার্থী নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, সেসব আসনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। দলের বিজয় নিশ্চিত করতে একাধিক আসনে তৃণমূলের কথা বিবেচনা করে প্রার্থী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। এতে করে সিলেট বিভাগের ৬টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে বলেও অনেকেই মনে করছেন। তাদের মতে এবারের নির্বাচনে জামায়াত সিলেটের বিভিন্ন আসনে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে। তাদের মোকাবেলা করতে হলে আগে দলের বিভক্তি ঘুচানোর পরামর্শও অনেক নেতার।

গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেটের ১৯ আসনের মধ্যে ১৪টি আসনে প্রাথমিক প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ফাঁকা রাখা হয় ৫টি আসন। এরপর থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ও তাদের সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে ফাঁকা আসনগুলোতেও দলীয় প্রার্থী ও স্থানীয় প্রার্থীদের দাবিতে মশাল মিছিল, গণমিছিল, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচী পালিত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থী বদলের আহবান জানান অনেকেই। এসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন ও রিভিউ করার জন্য তৃণমূলের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। বঞ্চিতদের তালিকায় অনেক যোগ্যরাও আছেন। ইতোমধ্যে দলের হাইকমান্ড মনোনয়ন প্রাপ্তদের কঠোর নির্দেশনাও দিয়েছে। অবিলম্বে মনোনয়ন বঞ্চিতদের অভিমান ভাঙ্গিয়ে কেন্দ্রকে জানাতেও বলা হয়েছে। বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত অনেকেই মনোনয়ন বঞ্চিত দু’একজনের মান ভাঙাতে পারলেও অনেকেই ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে দিন দিন ক্ষোভও বাড়ছে তৃণমূলে।

বিএনপির অন্য একটি সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনে দলের প্রার্থিতা নিয়ে নেতাকর্মীদের অস্থিরতা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। কোনো কোনো আসনের মনোনয়ন বঞ্চিতদের ঢাকায় ডেকে এনে কথাও বলা হয়েছে। অনেকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। ওই সব নেতা তাদের আসনে নিরপেক্ষভাবে জনপ্রিয়তা যাচাই করে প্রার্থিতা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছেন। আসনভিত্তিক কোন্দলের সঠিক কারণ, প্রার্থীদের দুর্বলতা, মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অবস্থান পুনর্মূল্যায়নে কাজ করছে দলের একটি টিম। দলীয় প্রধানের একজন উপদেষ্টা এবং একজন শিক্ষক প্রতিনিধিকে দিয়ে মাঠ জরিপ করানো হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর আগামীকাল ২৭ নভেম্বরের মধ্যে সিলেটের আসনগুলোর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

 

সিলেট-৩ আসন:
বর্তমানে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে বিএনপিতে তিনটি বলয় চাঙা রয়েছে। মালিক বলয় ছাড়াও সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর বলয় রয়েছে। বিগত দিনে প্রবাসে দলের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন এম এ মালিক। দেশে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে পুলিশের মুখোমুখি ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী ও তার অনুসারীরা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণা ও আসনটির সর্বস্তরের মানুষের দরজায় তারেক রহমানের বার্তা নিয়ে কড়া নেড়ে গেছেন ব্যারিষ্টার আব্দুস সালাম। মালিক দেশে আসার আগে আসনটিতে বিএনপির দু’টি বলয় ছিল, সালাম-কাইয়ুম। ইউনিয়ন থেকে গ্রামে-গ্রামে জনসমর্থন তৈরি করেছিলেন তারা। ৫ আগস্টের পরবর্তীতে মালিক দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে জন্মভূমি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন পর পা রাখেন। তিনি দেশে ফিরলে সিলেট-৩ আসনের মানুষের কাছে ছুটে যান। মালিককে কাছে পেয়ে খুব দ্রুত তিন উপজেলায় আরেকটি বলয় তৈরি হয়। শুরু হয় মনোনয়ন দৌড়। সর্বশেষ, এই তিন মনোনয়নপ্রত্যাশীর পাল্টাপাল্টি শোভাযাত্রা রাজপথে দেখা গিয়েছিল। প্রবাসের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে দলীয় অবদান রাখায় মালিককে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করেছে দলটি। কিন্তু মনোনয়ন পেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন মালিক। বাকি দু’টি বলয়ে থাকা অনুসারীরা তার কাছে আসেনি। এখন মনোনয়ন রিভিউয়ের আবেদন করেছেন প্রাথমিক মনোনয়ন বঞ্চিত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম ও আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। আর ক্ষুব্ধ সমর্থকরা এখনও চুড়ান্ত মনোনয়নের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

এদিকে, মনোনয়ন ঘোষণার পর কয়েক দিনের জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন ব্যারিষ্টার আব্দুস সালাম। গত সপ্তাহে ফিরে ধানের শীষের পক্ষে নিজ এলাকায় চালাচ্ছেন প্রচারণা। গত রবিবার রাতে দক্ষিণ সুরমায় একটি বৈঠকে দলের নেতাদের প্রতি ক্ষোভ ঝারেন ব্যারিস্টার সালাম। ইতোমধ্যে তার দেয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

সিলেট-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালিক বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। জনগনও সাদরে গ্রহণ করেছে। তারেক রহমানের বার্তা নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে বিপুলভোটে ধানের শীষ জয়লাভ করবে ইনশাল্লাহ।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেটের মানচিত্রকে বলেন, ‘দল থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় অনেক পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার সাথেই সবাইকে কাজ করতে হবে। সিলেটের সবকটি আসনেই মনোনয়ন প্রতিযোগিতা আছে। তবে, কোন দ্বন্দ্ব নেই বা বিভক্তি নেই। ধানের শীষ প্রতীকে সবাই ঐক্যবদ্ধ।’

 

সিলেট-৬ আসন:
সিলেটের অগ্রসর জনপদ হিসেবে পরিচিত গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে সিলেট-৬ নির্বাচনী এলাকা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এই আসনে বিএনপি দলের সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। মনোনয়নপ্রাপ্তির দৌড়ে তার সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ফয়সল আহমদ চৌধুরী। ‘রাতের ভোট’ হিসেবে আলোচিত ওই নির্বাচনে ফয়সল চৌধুরী লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন। এবার তার মনোনয়ন না পাওয়াকে অনুসারীরা কোনোমতেই মেনে নিতে পারছেন না। ফয়সল সমর্থকদের দাবি বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া এমরান আহমেদ চৌধুরীর এলাকামুখী নন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে তার সম্পৃক্ততা নেই। সম্প্রতি তার একটি সমালোচিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

সিলেট-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ফয়সল আহমদ চৌধুরী সিলেটের মানচিত্রকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এটা স্বাভাবিকভাবেই আমার কর্মী, সমর্থকরা কষ্ট পেয়েছেন। কারন তাদেরকে নিয়ে দীর্ঘদিন আমি ফ্যাসিবাদী সরকারের অন্যায় অত্যাচার সহ্য করে মাঠে ছিলাম। আমরা রিভিউ চেয়েছি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মাঠের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। আশা করি চুড়ান্ত মনোনয়ন আমিই পাবো।

 

সুনামগঞ্জ-১ আসন:
সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বাকি দুটি আসন শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে এমন আলোচনা আগে থেকেই ছিল। টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক। এ আসনে মনোনয়নের আলোচনায় ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান।
স্থানীয় বিএনপি সূত্র বলছে, আনিসুল হক ওয়ান-ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থী ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে তার মনোনয়নকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে। যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে গণমিছিল করেছে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বিএনপির একাংশ। একইসাথে প্রার্থী বদল করে কামরুজ্জামান কামরুলকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন প্রার্থীর সমর্থকরা।

সুনামগঞ্জ-৫ আসন:
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। বিগত সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেয়া ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখায় মিলনকে মূল্যায়ন করা হলেও ক্ষুব্ধ এই আসনে দলের হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীরা।

২০১৮ সালের কঠিন সময়ে দলের মনোনয়ন পেলেও এবার মিজানকে মূল্যায়ন না করায় হতাশ তার সমর্থকরা। ইতোমধ্যে প্রার্থিতার দাবিতে গোবিন্দগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিক্ষোভ ও শোডাউন করেছেন মিজানের অনুসারীরা। বিক্ষোভ সমাবেশে নিজের প্রার্থিতা পুনঃমূল্যায়ন করতে দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। তাঁর সমর্থকেরাও সড়ক আটকে বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচী পালন করছেন।

এদিকে, চূড়ান্ত মনোনয়নে প্রার্থিতা বঞ্চিত হলে মিজান বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট বার্তা না দিলেও তার অনুসারীরা মনে করেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অপরদিকে, মান-অভিমান ভুলে দলের পক্ষে কাজ করতে মিজানকে আহ্বান জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রাপ্ত কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। ভোটের মাঠের গ্রহণযোগ্যতার কথা বিবেচনা করে মিজানুর রহমান চৌধুরীকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে আশাবাদী তার সমর্থকরা।

 

হবিগঞ্জ-৪ আসন:
হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি ও শিল্পপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল। এ আসনে কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহসম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার, বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনজীবী পরিষদ নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আমিনুল ইসলাম আলোচনায় ছিলেন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় বিএনপি নেত্রী শাম্মী আক্তারের সাম্প্রতিক কিছু প্রকাশ্য মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে দলীয় মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরে শাম্মী আক্তার দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সৈয়দ ফয়সলের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তবে, এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া এসএম ফয়সালকে পরিবর্তন করে শাম্মী আক্তারকে প্রার্থী করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করছেন উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

মৌলভীবাজার-২ আসন:
মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে প্রাথমিকভাবে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শওকতুল ইসলামের নাম। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা। সাংগঠনিক অদক্ষতা এবং জনবিচ্ছিন্নতার অভিযোগ তুলে তারা অবিলম্বে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। এ আসনে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজাও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এ আসনে ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবেদ রাজাকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে রোডমার্চ কর্মসূচি

করে কুলাউড়া সংসদীয় আসন পূর্নবিবেচনা পরিষদ। আবেদ রাজার সমর্থকরা এলাকায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, পথসভা ও বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচী পালন করছেন।
তারা বলছেন, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা বিগত ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের নির্যাতন, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন।

আবেদ রাজা মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ সমর্থকরা প্রার্থী পরিবর্তন না করা পর্যন্ত টানা আন্দোলনের ডাক দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সিলেটে বিএনপির তৃণমূলে অসন্তাষ ও প্রার্থীতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউস সিলেটের মানচিত্রকে বলেন, ‘বড় দল হওয়ায় মনোনয়ন ঘোষণার পর কিছু আসনে আপত্তি ওঠা স্বাভাবিক। এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। প্রয়োজনে যে কোনো সময় পরিবর্তন আনা সম্ভব। নির্বাচনী প্রস্তুতি, জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

 

মূল রিপোর্ট: দৈনিক সিলেটের মানচিত্র

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১