ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মনু, ধলাই, জুড়ীসহ সকল নদনদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ফানাই সোনাই গোগালির পানি ইতিমধ্যে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ইতোমধ্যে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাকা-আধপাকা বোরোধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় সদর ইউনিয়নের পুরন্দরপুর এলাকায় গোগালী ছড়ার প্রায় ১৫০ ফুট বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসল, মৎস্য খামার ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাঁধ ভেঙে উপজেলার সদর ও জয়চণ্ডী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। প্লাবিত গ্রামের মধ্যে সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন এবং জয়চণ্ডী ইউনিয়নের দানাপুর, কামারকান্দি ও লামাগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ১০০ বিঘা আউশ ও বোরো ধানের ক্ষেত, আউশের বীজতলা এবং শতাধিক পুকুর প্লাবিত হয়ে মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাদিম মাহমুদ রাজু জানান, বাঁধ ভেঙে সদর ইউনিয়নের গাজিপুর গ্রামে ২০ বিঘা বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।
কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বলেন, বাঁধ ভাঙনের কারণে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে মৎস্য খামার, বোরো ধান ও আউশের বীজতলার ক্ষতি হয়েছে।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিন জানান, কুলাউড়া ও জয়চন্ডি ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ১০-১৫টি গ্রাম পাহাড়ি ঢলে বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করে। আকস্মিক ঢলে পানিবন্দি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দেওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে।