সিলেটে নগরীর শাহপরান এলাকার ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন (৬৫) কে পরকীয়া প্রেমের জেরে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যার পর জালাল আহমদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন স্থানীয়রা। এরপর পুলিশ জালাল আহমদের দেওয়া তথ্য মতে, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কিরিচ উদ্ধার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জালাল আহমদ হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারের পর এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। আটক জালালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে এক পুলিশ সদস্যের পাশে বসা অবস্থায় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে জালাল দাবি করেন, একজন নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। ওই নারী স্থানীয় এক বাবুর্চির স্ত্রী, যার স্বামী মারা গেছেন। হোটেলে কাজের সূত্রে তাদের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
জালালের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত শাহাব উদ্দিন প্রায়ই ওই নারীকে নিজের দোকানে চা-পান খাওয়াতেন, যা তিনি ভালোভাবে নেননি। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে শাহাব উদ্দিন তাকে গালাগালি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তাকে হত্যা করেন বলে দাবি জালালের।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।
বুধবার দুপুর দিকে জালাল আহমদকে শাহাব উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার জালালের বাড়ি সুনামগঞ্জ। তিনি শাহপরান এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার জালাল আহমদকে সন্দেহবশত স্থানীয়রা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিওফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে জালাল আহমদকে বলতে শোনা যায়, স্থানীয় এক দর্জির স্ত্রীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ ইস্যুতে শাহাব উদ্দিনের সাথে তার কথাকাটাকাটি হয়। শাহাবউদ্দিন তাকে (জালাল) গালিগালাজ করেন। এই ক্ষোভেই তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যা করেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেটের শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যমতে আমরা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছি। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
কী কারণে হত্যা এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, আসামি আদালতে জবানবন্দি দিলে আপনারা জানতে পারবেন না। তার আগে আমি কিছু বলতে পারবো না। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আপনাদের বিস্তারিত জানাবেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, হত্যাকান্ডের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন ইসলামাবাদ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাব উদ্দিন (৬৫) সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। তার ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা রয়েছে। তিনি পরিবার নিয়ে ইসলামাবাদ এলাকায় নিজ বাসায় থাকতেন।
শাহাব উদ্দিনকে হত্যা পূর্ব পরিকল্পিত বলছে পুলিশ। খুনিরা আগে থেকেই শাহাব উদ্দিনকে অনুসরণ করছিল বলে দাবি পুলিশের।
এর আগে, গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট মহানগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর ‘নিকুঞ্জ ভিলায়’ নিজ বাসার ভেতরে খুন হন ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নগরজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই হত্যাকান্ডও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সাথে বাবুলের সম্পর্কের জেরে বলে প্রথমে দাবি করেছিল পুলিশ।