সিলেট ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

সিসিক নির্বাচন: আলোচনায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৮, ২০২৩, ০১:৪৭ অপরাহ্ণ
সিসিক নির্বাচন: আলোচনায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী

দুয়ারে কড়া নাড়ছে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ বছরের শেষ দিকে অর্থাৎ নভেম্বরের মধ্যেই সিসিকে ভোটের প্রস্তুতি চলছে। ভোটার তালিকাও হালনাগাদ করছে নির্বাচন কমিশন।

এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের হাফডজন নেতা সক্রিয় থাকলেও নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীই আসন্ন সিসিক নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়তে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জণ চলছে দলটির অন্ধর মহলে।

যদিও প্রার্থীতার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি। তবে, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ঘনিষ্ট স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় হাইকমাণ্ড থেকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সহসাই বিষয়টি খোলাসা হবে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা শ্যামল সিলেটকে বলেন, ‘কথা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেছা হক সম্প্রতি দলীয় নেতাদের জানিয়েছেন, দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বলেছেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নগরীর বাইরে থেকে প্রার্থী দেয়া হবে। তবে কাকে প্রার্থী করা হবে- তা খোলাসা করেননি প্রধানমন্ত্রী।’ এতে ধরে নেয়া যায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী।

 

আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এমনিতেই একজন ক্লীন ইমেজের রাজনীবিদ। ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। কলেজ জীবনে তিনি বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন তিনি। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে গিয়েও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী থেমে থাকেন নি। সেখানে প্রথমে তিনি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। বর্তমানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই সিলেট-২ আসনে প্রার্থী হতে তৎপর থাকলেও দলীয় মনোনয়ন জুটেনি। তথাপি বসে থাকেননি তিনি। জাতীয় সংসদ থেকে স্থানীয় সরকার সব নির্বাচনকালে ছুটে এসেছেন দেশে। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সরব থাকতে দেখা গেছে তাকে।

বিশেষ করে সিলেট-১ ও সিলেট-৩ আসন, সিলেট জেলা পরিষদ ও ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয়প্রার্থীর বিজয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

নৌকার বিজয় নিশ্চিতে দিনরাত খেটেছেন তিনি। এ কারণে শুধু বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরেই নয়, সিলেট সদর ও সিলেট সিটি করপোরেশন এবং ফেঞ্চুগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে আলাদা গুরুত্ব রয়েছে তাঁর।

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সংসদ নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে আসবে। তাই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দৃষ্টি গত নির্বাচনে হাতছাড়া হওয়া মেয়র পদটি পুনরুদ্ধারের দিকে। যে কারণে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে আগ্রহী জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই নির্বাচনী প্রচারে নেমে গেছেন।

 

বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুর পর মেয়র পদে সে পর্যায়ের প্রার্থী নেই আওয়ামী লীগে। তবে মেয়র পদে প্রার্থী হতে ইতোমধ্যে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ছয়জন নেতা তৎপরতা শুরু করেছেন।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিটি নির্বাচনে বিএনপি না এলে আরিফুল হক চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাতে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী সহজে জয় পাবেন। এ কারণে মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগে পুরোনো কোন্দল আবার বড় হয়ে উঠতে পারে। এরই মধ্যে নেতাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়েছে। আড়ালে একে অন্যের দোষত্রুটি সামনে আনার চেষ্টা করছেন।

 

ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোটে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চারবারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ছেলে আরমান আহমদ নানাভাবে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় দলীয় সভা-সমাবেশে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

আর নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় না থাকলে সম্প্রতি আলোচনায় উঠে এসেছে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নাম। তাকেই এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েটপ্রার্থী ভাবা হচ্ছে।

যদিও এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। শুধু বলেছেন, ‘তিনি আওয়ামী লীগের একজনকর্মী। এটাই তার বড় প্রাপ্তি, বড় পরিচয়। নেত্রী যে নির্দেশনা দেবেন তা পালনে পিছপা হবেন না তিনি।’

 

সূত্র: দৈনিক শ্যামল সিলেট

সংবাদটি শেয়ার করুন