সিলেট ৭ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে নিরীহ পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০৯:৪৫ অপরাহ্ণ
আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে নিরীহ পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ
অন্যজনকে শেয়ার করুন⤵️Share with others

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও এলাকায় এক নিরীহ পরিবারের বোরো জমি ও বসত ভিটা দখল করে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে জমি ও ভিটা দখলের এই অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের বড় ছেলে মাহদী হাসান।

লিখিত বক্তব্যে মাহদী হাসান জানান, আটগাঁও গ্রামে তাদের পৈত্রিক ভিটেবাড়ি। আওয়ামী লীগের নেতা কামরুল হাসান চৌধুরী ও মাহদী হাসান চাচাতো ভাই। দীর্ঘদিন ধরে দিরাই পৌর এলাকায় বসবাস করেন মাহদী ও তার পরিবার।

মাহদী হাসান বলেন, আমার পিতা আমাদের তিন ভাই ও এক বোনকে অবুঝ রেখে ২০০৮ ইং সনে মারা যান। বাবা জীবিত থাকাকালে কামরুল ইসলাম আমাদের জমির ধান সবসময় পাঠিয়ে দিতো।

বাবা মারা যাবার পর তিনি (কামরুল ইসলাম) বদলে যান। আমাদের কোন খোঁজখবর পর্যন্ত নেননি। মা আমাদের অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন। একটু বড় হয়ে মায়ের পরামর্শে কামরুল হাসানের কাছে আমাদের ভিটে ও জমি বুঝিয়ে দিতে বলি।

জমি ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়ে কয়েকবছর আমাকে হাঁটিয়েছেন তিনি।স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার মুরুব্বিদের জানালে তারা সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু কামরুল ইসলাম কাউকেই পাত্তা দেননা। তিনি কয়েকবার আমাকে সম্পত্তি লিখে দিতে বলেন। আমি রাজী হইনি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

মাহদী হাসান জানান, তিনি আদালতে মামলা দায়ের করতে গেলে কামরুল হাসানের ভাই ডালাস চৌধুরী, আবুল হাসান চৌধুরী লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে হামলা চালায়। বিষয়টি সুনামগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে ডিবির ওসি ইকবাল বাহার মিমাংসার চেষ্টা করেন। এরপর কামরুল হাসানের ভাই ডালাস ও আবুল হাসান ‘গ্রামের বাড়ি গেলে আমাকে খুন করার হুমকি দেয়।

মাহদী বলেন, ওরা প্রতাপশালী লোক। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আমি শাল্লা থানায় জিডি করেছি। পিতার নামে রেকর্ডভুক্ত পৈত্রিক ভিটেবাড়ি ও ৩ একর ৯২ শতাংশ ২০৬ বর্গলিংক বোরো জমি ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেন মাহদী।

আটগাঁও গ্রামের লোকজন জানান, মাহদীর পিতা আব্দুল মুকিত চৌধুরী ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার সুবাদে দিরাই পৌর শহরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। জমিজমার দেখাশোনার দায়িত্ব কামরুল হাসান চৌধুরীর কাছে ন্যস্ত ছিল। তারাই মাহদীদের জমি চাষাবাদ করতো। আব্দুল মুকিত চৌধুরীর মৃত্যুর পর ওই জমি তাদের বলে দাবি করছেন।

মাহদী হাসানের মা জোৎস্না বেগম বলেন, কিছুদিন আগে কামরুল হাসান গং একটি জাল দানপত্র দলিল তৈরী করে আদালতে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

ওই দলিলটি ১৯৬৩ ইং সনের। যাতে উল্লেখ করা হয়েছে আমার শাশুড়ী হাজেরা বিবি কামরুল হাসানের পিতা হারুনুর রশীদের নামে জমি ও বাড়ি দানপত্র করে দিয়ে গেছেন। অথচ হাজেরা বিবি ১৯৮৬ ইং সনে ওই খতিয়ান ও দাগের ভূমি থেকে ২০ শতাংশ ভূমি আমার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন কিভাবে।

তিনি বলেন, জাল ওই দানপত্রের দুটি কপি আমরা পেয়েছি। এর একটির ভূমির পরিমাণের সাথে অন্যটির মিল নেই। একই দলিলে দুই ধরণের তথ্য কিভাবে আসে। তিনি বলেন, ভূমির এস.এ রেকর্ড থেকে বর্তমান আর.এস রেকর্ড সবই আমাদের নামে হলেও পেশীশক্তির জোরে কামরুল হাসান দখল করে রেখেছে।

আটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য এনামুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা সালিশের আয়োজন করেছিলাম। কামরুল হাসান আদালতের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ায় প্রক্রিয়াটি থেমে যায়।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আটগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার কথা জানানো হয়েছে। তবে কামরুল হাসান এালাকায় না থাকায় এখনো বসা হয়ে ওঠেনি।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, জিডি তদন্তাধীন আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন আছে। সেখানেই এর সমাধান হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১